গাজীপুরে বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট পালন

গাজীপুরে বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট পালন

আজ শুক্রবার (০৩ মার্চ) বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট ২০২৩ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জলবায়ু সুরক্ষা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নবায়নযোগ্য শক্তির উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ও জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধের দাবিতে গাজীপুরে প্রতীকী জলবায়ু ধর্মঘট পালিত হয়েছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচির অংশ হিসেবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে শুক্রবার (৩ মার্চ) এ প্রতীকী ধর্মঘট পালন করেন পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রফুল্ল’র তরুণ জলবায়ুকর্মীরা।

সুইডিস জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গের গড়ে তোলা স্কুল শিক্ষার্থীদের পরিচালিত আন্দোলন ‘ফ্রাইডেস ফর ফিউচার’ আহবানে বিশ্বব্যাপি এই জলবায়ু ধর্মঘট পালিত হয়ে আসছে। ঢাকায় নানা ধরনের দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দুই শতাধিক তরুণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়। দেশের ২৬টি জেলার তরুণ জলবায়ু কর্মীরা বিশ্বব্যাপী এই জলবায়ু ধর্মঘটের দাবিগুলোর সাথে সংহতি প্রকাশ করেছে।

প্রফুল্ল’র জলবায়ুকর্মী জুবায়ের আহমেদ সাব্বির বলেন, প্রতিবছর জলবায়ু নিয়ে বিশ্বনেতাদের কাছ থেকে আমরা একপ্রকার মিথ্যে আশ্বাস পেয়ে আসছি। সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়, তবে তার বাস্তবায়নের ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না। বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার প্রত্যয়ে প্যারিস চুক্তি হয় কিন্তু বিশ্ব নেতাদের শূণ্য কার্যক্রমের ফলে তাপমাত্রা এখন ৩ ডিগ্রির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। অন্যদিকে জাতিসংঘ বলছে, “বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ১৭ শতাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। ফলে দেশের ২ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।” আমাদের দরিদ্র এবং নিরীহ বিপুল এই জনগোষ্ঠীর ঠাঁই কোথায় হবে? তাদের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ কে দিবে? জলবায়ু শরনার্থীদের দায়ভার ধনী দেশগুলোকেই নিতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষয়ক্ষতির জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। দেখুন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনের ক্ষেত্রে ০.৪ শতাংশ অবদান রাখে। এদিকে চরম তাপমাত্রা, অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবনাক্ততা বৃদ্ধি এবং নদী ভাঙনের ফলে বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ভুগছে। জলবায়ু ঝুঁকিহীন, নিরাপদ এবং বাসযোগ্য এবং দূষণমুক্ত ভবিষ্যত চাই।

‘প্রফুল্ল’র আরেক জলবায়ুকর্মী তাহসিনা ইসলাম লুবনা বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের তিন জনের একজন শিশুর জীবন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে এমনকি তারা নিরাপদ নয়। ইউনিসেফের তথ্য মতে দেখা যাচ্ছে, “জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে বাংলাদেশের ২ কোটি শিশুর জীবন এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে রয়েছে।” অথচ বৈশ্বিক উষ্ণতা সৃষ্টির পিছনে আমাদের শিশুরা কোনোভাবেই দায়ী নয় কিন্তু আমাদের শিশুরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। চারিদিকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে একের পর এক বিপর্যয় ঘটছে তারপরেও তাদের টনক নড়ছে না। বিশ্ব নেতারা শূণ্য প্রতিশ্রুতি দিয়েই যাচ্ছে শুধু। পৃথিবীকে বাঁচিয়ে রাখার এই যাত্রায় শূন্য প্রতিশ্রুতি নয়, চাই কঠোর পদক্ষেপ, চাই জলবায়ু সুবিচার।

এসময় তরুণরা ক্ষতিকর জীবাশ্ম জ্বালানি বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসে (এলএনজি) অর্থায়ন বন্ধের দাবি জানান। এবং সমস্যা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে উল্লেখযোগ্যভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানান বক্তারা।

প্রফুল্ল একটি অলাভজনক পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। “পৃথিবীটা হোক মনোরম, আনন্দময় ও প্রস্ফুটিত” এই স্লোগানে সংগঠনটি তরুণদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

Share This Article

Share this post

WP2Social Auto Publish Powered By : XYZScripts.com