অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন প্রকল্প বরাদ্দের ৪২ শতাংশই চট্টগ্রামের!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৮ মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) ২০টি সভায় ১৫৩টি নতুন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা। তবে এই বরাদ্দে চরম আঞ্চলিক বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে পরিকল্পনা কমিশনের নথিতে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের ৪২ শতাংশ পেয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এ সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগকেন্দ্রিক প্রায় ৪০টি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, যার মধ্যে ২৯টি নতুন প্রকল্প। নতুন প্রকল্পের ১১টিই বাস্তবায়িত হবে চট্টগ্রাম নগরীতে।

অন্যদিকে, রংপুর বিভাগ পেয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৪৪ শতাংশ, রাজশাহী ১ দশমিক ৩৮ শতাংশ ও বরিশাল শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা ময়মনসিংহ বিভাগের ভাগ্যে জুটেছে মাত্র ৩৭৬ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বাড়ি চট্টগ্রামে। বিভিন্ন সময়ে উপদেষ্টাদের মধ্যে ১৩ জন ছিলেন এ বিভাগের। উন্নয়ন বরাদ্দে এই আঞ্চলিকতা প্রভাব ফেলেছে কিনা, সে প্রশ্নও উঠেছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সচিব মো. মামুন আল রশিদ বলেন, বাংলাদেশ সংবিধানের ১৯ অনুচ্ছেদে সম্পদের সমান সুযোগ ও সুষম বণ্টনের কথা বলা হয়েছে। সেটির ব্যত্যয় ক্ষতিকর। বরাদ্দের ক্ষেত্রে যেকোনো সরকারেরই আঞ্চলিকতা না দেখে প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা দেখা উচিত।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের সচিব এসএম শাকিল আখতার বলেন, প্রকল্পগুলো কোনো অঞ্চল বা ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, জাতীয় স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের বড় হাব। অর্থনৈতিক স্বার্থেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলকেন্দ্রিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামে অনুমোদিত উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ (ইআরএল-২) প্রকল্প, যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া চট্টগ্রামের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নে ৫ হাজার ১৫২ কোটি টাকা, কালুরঘাটে পয়ঃশোধনাগারের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে ২ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ উন্নয়নে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা বিভাগ পেয়েছে মোট বরাদ্দের ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ, খুলনা ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ, সিলেট ২ দশমিক ৫১ শতাংশ। সমগ্র দেশের জন্য নেওয়া প্রকল্পে ব্যয় হবে ৭৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সব অঞ্চলকে সমান সুযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম দেশের প্রধান ব্যবসাকেন্দ্র হওয়ায় বরাদ্দে গুরুত্ব পেতে পারে।

এ সময়ে মেয়াদ বৃদ্ধি ও পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে আগের সরকারের ৯৮টি প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। সর্বশেষ একনেকে কুমিল্লা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর