সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে যেন পাত্তাই দিল না ভারত। আগে ব্যাট করতে নেমে কিউইদের তোলা ১৯৮ রান এক তুড়ি মেরেই টপকে গেছে টিম ইন্ডিয়া। অভিষেক শর্মার ৩৮ বলে ১১৩ রানের ধুন্ধুমার ইনিংসে ভর করে ৪১ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছে ভারত। এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া। দুই ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করলো সিরিজ জয়।
ওয়েলিংটনে টসে জিতে আগে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত। ওপেনিংয়ে কিউইদের হয়ে নামেন টিম সেইফার্ট এবং ফিন অ্যালেন। যদিও দুজনের জুটিটা অত বড় হয়নি। দলের ৪ রানের মাথাতে আউট হন সেইফার্ট। ৬ বলে ২ রান করে সাজঘরে ফিরে যান সেইফার্ট।
তিনে নেমে অ্যালেনের সাথে যোগ দিয়েছেন ড্যারিল মিচেল। কার্যকরী ব্যাটিংয়ে শক্ত হাতে পরিস্থিতি সামাল দেন দুজন। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন দারুণ সব শট। বের করেছেন রানও। দলের বোর্ডেও রান উঠেছে দ্রুত। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। পাওয়ারপ্লে শেষেও চলেছে অ্যালেন এবং মিচেলের উইলোবাজি। দুজনে ফিফটির পথে থাকলেও ফিফটির আগে থেমেছেন অ্যালেন। ২৫ বলে ৪০ রান করে বিদায় নেন ফিন অ্যালেন। মিচেল টিকে ছিলেন। ফিফটিও ছুঁয়েছেন। ড্যারিল মিচেলের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে রান উঠেছে দলের বোর্ডে। চারে নামা গ্লেন ফিলিপস এদিন সুবিধা করতে পারেননি খুব একটা। ১৪ বলে ১৭ রান করে বিদায় নিয়েছেন। শেষ দিকে মিচেলের সাথে যোগ দিয়েছেন বেভন জ্যাকবস। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে রান বের করেছেন তিনিও। মিচেলের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে ছুটে চলেছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস।
দুইশ রানের খুব কাছে গিয়ে থেমেছে নিউজিল্যান্ড। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তোলে কিউইরা। ৫২ বলে ৮৯ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন মিচেল। অন্যদিকে জ্যাকবস অপরাজিত ছিলেন ২৩ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলে।
ভারতের হয়ে ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন আর্শদীপ সিং, অক্ষর প্যাটেল এবং নিতিশ কুমার রেড্ডি।
জবাব দিতে নামা ভারত যেন শুরুটা করেছে সুপারসনিক প্লেনে চেপে। দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা এবং বৈভব সূর্যবংশী শুরু থেকেই চালিয়েছেন মারমুখি ব্যাটিং। ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে কিউইদের কচুকাটা করে রান বের করেছেন দুজন। সীমানার বাইরে আছড়ে ফেলেছেন বল। একের পর এক বাউন্ডারিতে রান বের করেছেন দুজন। বেশি আগ্রাসী ছিলেন অভিষেকই। মাত্র ১৫ বলেই ছুঁয়ে ফেলেন ফিফটি।
সূর্যবংশীও সাবলীল ছিলেন। পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ১১৮ রান তোলে ভারত। পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ারপ্লেতে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও এটি, আগের সর্বোচ্চ ১১৩ রান ছিল অস্ট্রেলিয়ার।
সূর্যবংশী ফিফটির খুব কাছে গিয়ে থেমেছেন। ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে দলের ১৩৩ রানের মাথাতে থেমেছেন তিনি। অভিষেক টিকে ছিলেন। তবে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর কিছুটা কমে যায় ভারতের রানের গতি। সেঞ্চুরির কাছে থাকা অভিষেক এগিয়েছেন সাবধানী ব্যাটিংয়ে। তিনে নামা সাঞ্জু স্যামসনও দেখেশুনে রান বের করেছেন। যদিও ততক্ষণে ম্যাচ জেতা প্রায় নিশ্চিতই করে ফেলেছে ভারত।
মাত্র ৩৫ বলেই সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন অভিষেক শর্মা। সেঞ্চুরির পর আউট হয়েছেন যদিও। তবে ম্যাচ জেতা ততক্ষণে নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। ৩৮ বলে ১১৩ রানের ধুন্ধুমার এক ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরেছেন অভিষেক শর্মা।
সাঞ্জু স্যামসনের সাথে চারে নেমে যোগ দেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। শেষ দিকে বিদায় নেন আইয়ার। ১০ বলে ৫ রান করেছেন ভারতীয় অধিনায়ক। ১৩ বলে ১৮ রান করে আউট হন স্যামসন। শেষে নামান ধির এবং তিলক ভার্মার ব্যাটে ৪১ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে চলে যায় ভারত। ৬ উইকেটের জয়ে ২ ম্যাচ হাতে রেখেই নিশ্চিত করেছে সিরিজ জয়, সিরিজে এখন ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ভারত।
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন কাইল জেমিসন, ম্যাথু ফিশার এবং মিচেল স্যান্টনার।
