অর্থাভাবে চিকিৎসাবিহীন জীবন, তবুও শেষ বয়সে পরস্পরকে আঁকড়ে সাজু-নূরজাহান

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

দারিদ্র্যের কষাঘাত ও বয়সের ভারে জীবন যখন বিপর্যস্ত, তখনও এক হয়ে বেঁচে থাকার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন শেরপুরের বয়োবৃদ্ধ দম্পতি সাজু শেখ ও নূরজাহান বেগম। তাদের ৬৫ বছরের দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে বস্তুগত সুখের ছোঁয়া মেলেনি, মেলেনি পেটপুরে অন্ন কিংবা ব্যাধি উপশমের ওষুধ; কিন্তু এতো কিছুর পরও ভাটা পড়েনি দুজনের অকৃত্রিম ভালোবাসায়।

অর্থাভাবে চিকিৎসাবিহীন কাটে দিন, তবুও বয়সের বার্ধক্যে দুজন দুজনকে আঁকড়ে ধরে পার করছেন জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাজু শেখ তার স্ত্রীকে কোলে নিয়ে খাবার চাইছেন এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সাহায্যের হাত বাড়ায় জেলা প্রশাসন ও স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, সাজু-নুরজাহান দম্পতির এ দীর্ঘজীবনে তিন কন্যা ও তিন পুত্র সন্তান রয়েছে। কন্যা তিনজনের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। ওই মেয়েদের কেউ কেউ কালে-ভদ্রে বাবার খোঁজ নেন। আর তিন পুত্রের মধ্যে একজন করোনার সময় নিরুদ্দেশ হলেও মাঝে-মধ্যে খোঁজখবর রাখেন তাদের। আরেকজন ঢাকায় রিকশা চালান। তিনিও বছরে দু-একবার বাড়িতে আসেন। সবাই দারিদ্র্যতার সঙ্গে লড়াই করে দিনাতিপাত করছেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, শেরপুরের বসবাসকারী সাজু শেখের ছেলে নূর ইসলাম দিনমজুর ও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে বৃদ্ধ মা-বাবার সাধ্যমতো ভরণপোষণ ও খোঁজখবর রাখেন। কিন্তু এ দুর্মূল্যের বাজারে পুত্র নূর ইসলামের নিজের সংসার চলে টানাটানির মধ্যে। তারও স্ত্রী চিকিৎসার অভাবে কয়েক বছর আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তাই মা-বাবার ভরণপোষণ ঠিকমতো করতে পারেন না।

এদিকে প্রায় ছয় বছর আগে নূরজাহান পা পিছলে পড়ে গিয়ে কোমরের হাড় ভেঙে যায়। তারপর থেকেই নূরজাহান বিছানায় শয্যাশায়ী। দৈন্যতার কারণে চিকিৎসা করাতে পারছেন না স্বামী সাজু শেখ।

স্থানীয় সজীব আহমেদ বলেন, জীবনযুদ্ধে মানুষ অনেক সময় দরিদ্রতার কাছে হেরে যায়। আবার কখনো কখনো দরিদ্রতাকে জয় করে। শেরপুরে এমনই এক ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধ দম্পত্তি রয়েছে, যাদের ভালোবাসার কাছে দরিদ্রতা হেরে গেছে। শুধু তাই নয়, হেরে গেছে শারীরিক অক্ষমতা ও বার্ধক্যজনিত রোগবালাই।

রক্তসৈনিক বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আল আমিন রাজু বলেন, ভিডিওটি নজরে আসলে আমার দ্রুত খোঁজখবর নেই। তারপর দেড় মাসের খাবারের জন্য যা যা প্রয়োজন তা আমাদের সংগঠনের পক্ষ হতে সাজু শেখের হাতে তুলে দিয়েছি।

এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, ভিডিওটি নজরে এসেছে। বৃদ্ধ সাজু শেখ এবং নূরজাহান দম্পতির ব্যাপারে যাবতীয় খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা বিনতে রফিক তার বাড়িতে গিয়ে দেখা করে নগদ সহায়তা দিয়েছেন। আমরা পরিবারটিকে নিয়ে আরও চিন্তা করছি। তাদের অন্যান্য নাগরিক যেসব সুবিধা দেওয়া যায়, তা তাদেরকে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন