আওয়ামী লীগ নেতা পালিয়ে যাওয়ায় ছেলে-শ্যালককে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫২ এএম

আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতাকে ধরতে না পেরে তার কিশোর ছেলে ও শ্যালককে ধরে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার সদস্যদের বিরুদ্ধে।

এ সময় ডিবি পুলিশের সদস্যদের স্থানীয়দের বাধা মুখে পড়তে হয় বলেও জানা গেছে। এমনকি ডিবির গাড়ির সামনে বসে পড়ে প্রতিবাদ জানান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতার স্বজনরা।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল নগরীর সাগরদী দরগাহ বাড়ি সড়কে ঘটনাটি ঘটে। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীরা ঘটনার ছবি এবং ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের বাধা দেয় ডিবি পুলিশ।

পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক বাহার বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। তার বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী একাধিক মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারা বরণের বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন বলে দাবি স্বজনদের।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে সাগরদী এলাকায় এনামুল হক বাহারকে ধরতে তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। বাসার মধ্যে থেকে বাহারকে আটকের চেষ্টা করলে স্ত্রী-ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায় বাহার পুলিশের কাছ থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার পলাশ কান্তি নাথসহ ডিবির একাধিক টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা ঘটনাস্থল থেকে বাহারের কিশোর ছেলে জিহাদ এবং শ্যালক মিরাজকে আটক করে গাড়িতে তুললে পরিবারের সদস্যরা বাধা দেয় এবং ডিবির মাইক্রোর সামনে বসে পড়েন। এ সময় পুলিশ এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

এনামুল হক বাহারের শ্যালিকা মরিয়ম জেরিন দাবি করেছেন- তার দুলাভাই রাজনৈতিক সকল মামলায় জামিনে আছে। ডিবি পুলিশ কোনো অপরাধ ছাড়াই দুপুরের দিকে বাহারকে ধরে বেদম মারধর শুরু করে। এ সময় বাহারের ছেলে, এবারে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জিহাদ ও তার মা পুলিশকে বাধা দেয়। তখন জিহাদকে ঘরের মধ্যে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে বেদম মারধর করে তারা।

তিনি আরও বলেন, খবর পেয়ে আমরা পরিবারের সদস্যরা এবং এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। জিহাদ ও মিরাজকে বিনা কারণে আটকে বাধা দিলে আমাদেরকেও মারধর করেছে। জিহাদের মা সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে।

তবে এ প্রসঙ্গে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মাদ সালেহর বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করেননি।

তার পরিবর্তে উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) পলাশ কান্তি নাথ সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল থেকে আমরা দুজনকে ধরে এনেছি। তবে এখনই আটক বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন