আটকে পড়েছেন এক লক্ষেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিক

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৫ এএম

dubai airportমধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়েছেন এক লক্ষেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিক। আকাশপথের বড় অংশ বন্ধ থাকায় অধিকাংশ বাণিজ্যিক ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে, আর স্থলপথে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফেরাতে সব ধরনের বিকল্প খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক ও চার্টার ফ্লাইট চালু করা, সামরিক বিমান ব্যবহার এবং বাসে করে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরব বা তুরস্কে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা।

প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer–এর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ইরানের হামলা উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর ঘাঁটি, বিমানবন্দর ও হোটেল লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে, যা সরাসরি ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হচ্ছে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

পররাষ্ট্র দপ্তর ২৪ ঘণ্টা কনস্যুলার সহায়তা চালু করেছে। অতিরিক্ত কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে, যাতে স্থানীয় সরকার ও ভ্রমণ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, অঞ্চলে প্রায় দুই লক্ষ ব্রিটিশ নাগরিক অবস্থান করছেন, যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ইতিমধ্যে নিজেদের উপস্থিতি নিবন্ধন করেছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই বিমানবন্দর থেকে সীমিত সংখ্যক ফ্লাইট চালুর চেষ্টা হলেও, চলমান হামলার কারণে আকাশপথ এখনও অনিরাপদ। দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইন এমিরেট্স, ইতিহাদ এয়ারওয়েজ এবং কাতার এয়ারওয়েজ —যারা উপসাগরীয় আকাশপথে প্রাধান্য বিস্তার করে—তাদের কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার বিকল্প হিসেবে বাসযোগে নাগরিকদের সৌদি আরব সীমান্তে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে, কিছু ক্ষেত্রে তুরস্ক হয়ে সরিয়ে নেওয়ার পথও বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত আটকে পড়া যাত্রীদের হোটেল ও খাবারের খরচ বহন করছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে কি না তা স্পষ্ট নয়।

পররাষ্ট্র দপ্তর ইতোমধ্যে ইরান, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কেবল অত্যাবশ্যক ভ্রমণ করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এত বিপুল সংখ্যক নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল হবে। ২০১৭ সালে বিমান সংস্থা মনার্ক এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ১ লাখ ১০ হাজার যাত্রীকে দেশে ফেরানো হয়েছিল। দুই বছর পর থমাস কুক গ্রুপ দেউলিয়া হলে ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি একটি সামরিক সংকট, যা আগের বেসামরিক সংকটগুলোর চেয়ে অনেক বেশি জটিল।

বিমান চলাচল বিশ্লেষক জন স্ট্রিকল্যান্ড বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চল বৈশ্বিক বিমান চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এখানে আটকে পড়া মানুষের সংখ্যা বিপুল। শুধু সরাসরি সংঘাতপ্রবণ এলাকায় থাকা ব্যক্তিরাই নন, বরং ট্রানজিট যাত্রীরাও এর প্রভাবের মধ্যে পড়েছেন।

সরকার বলছে, বাণিজ্যিক ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়াই দ্রুততম সমাধান হতে পারে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হচ্ছে। ব্রিটিশ নাগরিকদের পররাষ্ট্র দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ এবং নিকটস্থ দূতাবাসে নিবন্ধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন