আমরা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক রিসেট করতে চাই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ‘রিসেট’ করে সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। অতীতের ১৫ বছরের সম্পর্কের ধারা থেকে বেরিয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি ‘গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ’ বা কার্যকর সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে তা বহুপক্ষীয় কোনো সম্মেলনের ফাঁকে নয়, বরং দ্বিপক্ষীয় সফর হওয়াই বেশি কার্যকর হবে বলে মনে করেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে উই ওয়ান্ট টু গুড ওয়ার্কিং রিলেশনশিপ। তো বাইলেটারাল ভিজিটটা হলে প্রথমে ভালো হয়। উই ডোন্ট ডু অ্যা বাইলেটারাল মেসেজ ইন মাল্টিলেটারাল ভিজিট।’

বিষয়টি শুধু ভারতের ক্ষেত্রে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা ইন্ডিয়ার ক্ষেত্রে। আমি বলিনি যে এভরি মাল্টিলেটারাল জায়গায় গেলে আমরা কাউকে মিট করব না।’

সম্পর্ক অগ্রগতির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উই ওয়ান্ট বাইলেটারেটারাল রিলেশনশিপ, উই ওয়ান্ট টু রিসেট আওয়ার রিলেশনশিপ। এতদিন ছিল একটা ঝামেলাগ্রস্ত, ত্রুটিপূর্ণ ও লুটেরা সরকারের সঙ্গে ১৫ বছর সম্পর্ক। এটা থেকে বের হয়ে এখন এটা নতুন সম্পর্কের দিকে যাবে। এটা বাইলেটারাল মাধ্যমে।’

ভারতের বিষয়ে অতিরিক্ত চিন্তা-ভাবনা বাদ দেওয়া আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, রাতের খাবার—সবসময় খালি ভারতের কথাই ভাবলে চলবে না। নিজের দেশের কথা ভাবুন। 

বহুপক্ষীয় ফোরামে ভারতের সঙ্গে বৈঠক একেবারেই হবে না—এমন নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যার সঙ্গে যখন দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক কথা বলা দরকার, আমরা অবশ্যই তা বলব। কিন্তু সাইডলাইনে সবার সঙ্গে তো আর দেখা করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের অনেক নিমন্ত্রণ থাকবে এবং অনেক দেশের সঙ্গে আলোচনা হবে।’

আগামী জানুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পদে নির্বাচন রয়েছে। সম্প্রতি এই পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন। সেখানে বাংলাদেশ নতুন কোনো প্রার্থী দেবে কি না সে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক পদে সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুলের নিয়োগটি ছিল ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও বিতর্কিত’ উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন একটি উচ্চপর্যায়ের পদের জন্য তার প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা কিছুই ছিল না। একটি স্বৈরাচারি সরকার স্বজনপ্রীতি করে তাকে সেই পদে বসিয়েছিল।

এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ওই পুরো পরিবারের দুর্নীতি ও জালিয়াতির খবর এখন একটির পর একটি সামনে আসছে। ​সুতরাং তার নিয়োগ নিয়ে তদন্ত হওয়া মোটেও বিস্ময়কর নয়। স্বৈরাচারী আমলে জালিয়াতি, তথ্য গোপন ও প্রভাব খাটিয়ে তাকে ওই পদে বসানো হয়েছিল।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন