ইইউর সঙ্গে সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি (পিসিএ) বিষয়ে পঞ্চম দফা আলোচনা ৭–৮ জানুয়ারি ঢাকা ও সিলেটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে উভয় পক্ষ চুক্তিটির খসড়া চূড়ান্ত করেছে। এ উপলক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে বাংলাদেশে সফররত।

বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক সচিব ড. মো. নজরুল ইসলাম। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের এশিয়া–প্যাসিফিক বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাউলা পাম্পালোনি।

আলোচনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং ইইউর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি অংশ নেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা বৈঠকে নজরুল ইসলামকে সহায়তা করেন।

প্রস্তাবিত পিসিএ চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ–ইইউ ব্যাখ্যামূলক বৈঠকের মাধ্যমে। এরপর থেকে উভয় পক্ষ ঢাকা ও ব্রাসেলসে সরাসরি ও ভার্চুয়ালি পাঁচ দফা আলোচনা এবং একাধিক কারিগরি বৈঠকে অংশ নেয়। পঞ্চম দফা আলোচনায় বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে—যার মধ্যে রয়েছে আইন ও বিচারিক সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব অধিকার, জ্বালানি সহযোগিতা, মৎস্য ও জলজ চাষ এবং সমুদ্র শাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার, কাস্টমস সহযোগিতা ইত্যাদি।

বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্কের পরিবর্তিত অগ্রাধিকার ও উদীয়মান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো প্রতিফলিত করে এমন একটি সর্বাঙ্গীণ, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক চুক্তিতে পৌঁছাতে উভয় পক্ষ গঠনমূলক আলোচনা করে। সফল আলোচনার পর পিসিএ চুক্তির পাঠ্য উভয় পক্ষের সম্মতিতে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হলে এটি বাংলাদেশ–ইইউ কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য একটি আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। মানবাধিকার ও সুশাসন থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশগত স্থায়িত্ব ও জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, পরিবহন এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বহু নীতিখাতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক জোরদার করতে এটি সহায়ক হবে। তাছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পিসিএ স্বাক্ষরকারী প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ হওয়ার পথে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

এর আগে বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়—যার মধ্যে ছিল পিসিএ চুক্তি, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে সহযোগিতা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার বিষয়ে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে গঠনমূলক, ভবিষ্যতমুখী ও ফলপ্রসূ সম্পৃক্ততার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

পাম্পালোনি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর বাংলাদেশ–ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের মধ্যে সম্পৃক্ততার এক নতুন যুগের সূচনা করবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন