ইরানচুক্তি না হলে ‘অন্য পথে’ হাঁটবে যুক্তরাষ্ট্র: রুবিও

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম

ইরানের সঙ্গে একটি ‘ভালো ও শক্তিশালী’ চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ওয়াশিংটন অন্য পথ বেছে নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ অবসানে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আশাবাদ কিছুটা কমিয়ে দেওয়ার পর রুবিওর এই মন্তব্য সামনে এলো।

সোমবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো গত রাতে কিংবা আজ কোনও অগ্রগতির খবর আসতে পারে। তবে বিষয়টি নিয়ে খুব বেশি কিছু ধরে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”

তিনি বলেন, “আমাদের টেবিলে এমন একটি শক্ত ভিত্তির প্রস্তাব রয়েছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং নৌপথ স্বাভাবিক করা সম্ভব হতে পারে।”

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। টানা ৩৯ দিন ভয়াবহ যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল থেকে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে। একই সময়ে মধ্যস্থতাকারীরা একটি সমঝোতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ইরান এখনও অধিকাংশ জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।

রবিবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “চুক্তি সম্পন্ন, অনুমোদিত ও স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন অবরোধ পুরোপুরি বহাল থাকবে।”

একই পোস্টে তিনি আরও বলেন, “উভয় পক্ষকেই সময় নিতে হবে এবং সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে।”

এদিকে সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ‘বড় একটি অংশে’ সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “এটি এই অর্থ বহন করে না যে খুব শিগগিরই কোনও চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনার মূল বিষয় পারমাণবিক ইস্যু নয়; বরং যুদ্ধ বন্ধ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, সম্ভাব্য কোনও চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে- এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, তেহরান ‘হুমকিকে গুরুত্ব দেয় না’।

তার এই বক্তব্য আসে রুবিওর সতর্কবার্তার পর, যেখানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা হয় একটি ভালো চুক্তিতে পৌঁছাব, নয়তো অন্যভাবে বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। অবশ্যই আমরা একটি ভালো চুক্তিই চাই।”

কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই সোমবার পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তারা চীন সফর করেন। দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বেইজিংয়ে চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।

চীন জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পাকিস্তানের সঙ্গে একযোগে কাজ করবে বেইজিং।
এর আগে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে আসিম মুনির পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভিকে সঙ্গে নিয়ে তেহরান সফর করেন।

চুক্তির পথে যেসব জটিলতা
সম্ভাব্য সমঝোতার খবর সামনে আসার পর ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানান, ইরান নীতিগতভাবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি চুক্তির মূল কাঠামোর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। ‘নীতিগত সম্মতি’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়নি।

মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথম ধাপে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হতে পারে। এরপর পারমাণবিক কার্যক্রমসংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনা চলবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের জ্যেষ্ঠ ফেলো চার্লস কাপচান মনে করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে দ্রুত কোনও স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষেত্রে এটি প্রায় স্বাভাবিক বিষয়। একদিন তারা এক পথে হাঁটে, পরের দিন আরেক পথে।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান যদি সত্যিই তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ত্যাগে এবং কোনও শর্ত ছাড়া হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে সম্মত হয়, তখনই কেবল স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা বাস্তব মনে হবে। এখনও সেই অবস্থান থেকে আমরা অনেক দূরে।” সূত্র: আল-জাজিরা

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর