মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়র ইব্রাহিম বলেছেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে দেশের দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থান ইতিবাচক ও বাস্তব ফল বয়ে এনেছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করা এবং গাজা সংকটে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার ফলে মালয়েশিয়ার জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারছে।রবিবার (৫ এপ্রিল) জোহর কেদিলান কনভেনশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অস্বীকার না করে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তার মতে, সরকারের সুস্পষ্ট অবস্থানই এসব বাস্তব সাফল্য নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের ওপর হামলার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার প্রতিবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্টকে রাজি করিয়ে মালয়েশিয়ার জাহাজ চলাচলের অনুমতি আদায় করা মোটেও সহজ ছিল না।
তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের তুলনায় বর্তমান প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে বেশি সক্ষম হয়েছে। একইসঙ্গে এসব হামলার বিরুদ্ধে সংসদে প্রস্তাব উত্থাপনের কথাও তুলে ধরেন।
বিরোধী দল তার এই প্রচেষ্টাকে খাটো করে দেখছে বলে হতাশা প্রকাশ করেন আনোয়ার। পাশাপাশি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প-এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ নিয়ে সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থ বিসর্জন না দিয়েই তিনি আলোচনা করেছেন।
তিনি আরও জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি হামাস নেতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা তুলে ধরেন, যাতে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ বিশেষ করে শিশুদের নিহত হওয়া এবং ভূমি দখলের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা যায়।
এছাড়াও তিনি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর কাছেও একই বার্তা পৌঁছে দেন। তিনি পশ্চিমা বিশ্বের দ্বিমুখী নীতি এবং গাজায় চলমান দমন-পীড়নের সমালোচনা করেন।
আনোয়ার বলেন, এসব পদক্ষেপ মালয়েশিয়ার সংস্কারমূলক নীতির প্রতিফলন এবং বিশ্ব রাজনীতিতে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ।
দেশীয় প্রসঙ্গে তিনি জোহরের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে ফেডারেল সরকারের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি ফরেস্ট সিটি প্রকল্প পুনরুজ্জীবন, দীর্ঘদিন বিলম্বিত মহারানি বন্দর প্রকল্পে সহায়তা এবং জোহর সিঙ্গাপুর স্পেশাল ইকনোমি জোন-এ পূর্ণ সমর্থনের কথা উল্লেখ করেন।
এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনে তার ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততার কথাও জানান তিনি। এ সময় সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি শিয়েন লুং-এর সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জোহরের নেতৃত্ব যেই থাকুক না কেন, ফেডারেল সরকার সবসময় সমর্থন দিয়ে যাবে। পাশাপাশি গত তিন বছরের নীতিগত কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সরকারের অবদান যাচাই করার আহ্বান জানান।
