ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম বা ই-সিগারেট বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে এ খাতে প্রমাণভিত্তিক ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডস অ্যাসোসিয়েশন-বেন্ডস্টা।
রবিবার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টা জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ভেপ আমদানির পথে বাধা এবং এ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করা হয়েছে, যা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
তাদের দাবি, কিছু সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার সভাপতি সুমন জামান, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান আহমেদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনটির দাবি, দেশে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ENDS বা ভেপ ব্যবহার করছেন, যাদের অনেকেই ধূমপান ত্যাগ বা ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে এটি গ্রহণ করেছেন। বেন্ডস্টার তথ্য অনুযায়ী, এ খাতে শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও ৬০০-এর বেশি খুচরা বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যার সাথে বহু মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী ই-সিগারেট প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচিত। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ধূমপান ত্যাগে সহায়ক হিসেবে ই-সিগারেট ব্যবহারের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
বেন্ডস্টা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালিসহ অনেক দেশে ই সিগারেট নিষিদ্ধ নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় এর ব্যবহার অনুমোদিত। তাদের মতে, পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে কালোবাজারের ঝুঁকি বাড়তে পারে এবং অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের বিস্তার ঘটতে পারে।
সংগঠনটি ENDS খাতের জন্য একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো প্রণয়নের প্রস্তাব তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ, লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু, কর কাঠামোর আওতায় আনা এবং বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা।
সংগঠনের নেতারা বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতি হ্রাস—এই তিনটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ENDS বিষয়ে নীতিনির্ধারণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্যের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
