ই-সিগারেট নিষিদ্ধসহ নতুন অধ্যাদেশে আশাবাদী আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং। সংগঠনটির মতে, এই অধ্যাদেশ তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে রক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টরের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফোরামের সদস্যরা সরকারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া তরুণ বক্তারা বলেন, তামাক ব্যবহার ক্যান্সারসহ নানা ধরনের অসংক্রামক রোগের বড় ঝুঁকির কারণ। দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে এক লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

তাঁরা জানান, সংশোধিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এর আওতায় ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টস (এইচটিপি)সহ বিভিন্ন নতুন ধরনের তামাকজাত পণ্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচকে প্রথমবারের মতো তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বক্তাদের মতে, এসব সিদ্ধান্ত দেশের তরুণ প্রজন্মসহ সব শ্রেণির মানুষকে তামাকের ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৮ শতাংশ তরুণ। এর মধ্যে প্রায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ তরুণ তামাক ব্যবহার করে। সংশোধিত অধ্যাদেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে তরুণরা ই-সিগারেটসহ ক্ষতিকর পণ্যের প্রভাব থেকে রক্ষা পাবে, কমবে তামাক ব্যবহার এবং তামাকজনিত অকাল মৃত্যুর হারও হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবায় সরকারি ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশগত ক্ষতিও কমবে বলে মত দেন বক্তারা।

নতুন অধ্যাদেশে পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহণে সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ, তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রদর্শন বন্ধ এবং প্যাকেটে ৭৫ শতাংশ সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংযোজনের বিধানকে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এ সময় ফোরামের তরুণ সদস্যরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে আহ্বান জানান, যেন দ্রুত এই অধ্যাদেশকে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে সিগারেটের খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধ, তামাক কোম্পানির প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি) পূর্ণ বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।

অনুষ্ঠানে আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িং-এর কো-অর্ডিনেটর মারজানা মুনতাহারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন তাসনিম হাসান আবির, খাদিজাতুল কুবরা, বায়েজিদ হোসেনসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর