ঈদের আগেই পে-স্কেল চান সরকারি চাকরিজীবীরা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৯ পিএম

সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন বেতন ৩৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবি জানানো হয়েছে। 

আজ রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ।

সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পৃথক শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে সরকার গঠন করায় দেশের জনগণ যেমন ভোটাধিকার ফিরে পেয়েছে, তেমনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল ১৪ অনুপাতে ১২টি গ্রেডের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতন স্কেল নির্ধারণ করে আগামী ঈদের আগেই গেজেট প্রকাশের অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ দেশের কর্মচারী অঙ্গনের সর্ববৃহৎ পেশাজীবী সংগঠন। সরকারের সকল দপ্তর, প্রতিষ্ঠান, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের দপ্তরভিত্তিক ও জাতীয়ভিত্তিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে এই জোট গঠিত।

২০১৫ সালে ৮ম পে-স্কেলে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বৈষম্যের শিকলে আবদ্ধ করার পর থেকে প্রথম পর্যায়ে পে-স্কেলের বৈষম্য নিরসনের জন্য আবেদন-নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বিগত কোনো সরকার সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসেনি। অথচ বিগত বিএনপি সরকার ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে কর্মচারীদের দুঃখ-দুর্দশার বিষয় বিবেচনা করে দুটি পে-স্কেল দিয়েছিল।

গত ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬ সদস্যের পরিবারের ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে কর্মচারীরা দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘যথাসময়ে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়ন’ করার অঙ্গীকার ছিল, যার ফলে কর্মচারীরা আশান্বিত হয়েছেন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০১৯ সাল থেকে বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আবেদন-নিবেদনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছেও আবেদন-নিবেদনসহ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়। সে প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে ৯ম পে-কমিশন গঠিত হয়, যার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে সরকারের কাছে প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পে-স্কেল প্রদানের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি।

সংগঠনের নেতারা বলেন, প্রত্যাশা করছি, প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মচারীর অসহায়ত্বের বিষয় বিবেচনা করে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বেই পে-স্কেলের গেজেট জারি করে কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পূর্বের অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিটি ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য ও পদোন্নতি বৈষম্য দূর না করে শুধুমাত্র প্রশাসন ক্যাডারে কর্মরত কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সুযোগ করে দিয়েছে। এমনকি অবসরে যাওয়ার পরেও কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ফলে সংস্কার কমিটির সুপারিশে ১১-২০ গ্রেডে কর্মরত কর্মচারীরা বিন্দুমাত্র লাভবান হননি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫ নং অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যুক্তিসঙ্গত মজুরির বিনিময়ে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার বিষয়টি রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। একজন কর্মচারীর পরিবারে ৬ জন সদস্য বিবেচনায় সর্বনিম্ন বর্তমান বেতন ৮২৫০ টাকায় তিন বেলা খাবার, মাথা গোঁজার ঠাঁই, চিকিৎসা, সন্তানের শিক্ষা, অতিথি আপ্যায়ন ও বিনোদনের ব্যয় মিটিয়ে মানবিক ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে জীবনধারণ সম্ভব নয়। এছাড়া ২০ থেকে ১১ গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন ৮২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ১২৫০০ টাকায় শেষ হয়েছে। এই দশ গ্রেডের বেতন স্কেলের মোট পার্থক্য মাত্র ৪২৫০ টাকা। অথচ একই সময়ে ১০ থেকে ১ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন ১৬০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭৮০০০ টাকায় শেষ হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর