ঈদের পরই জাতীয় খেলোয়াড়দের বেতন দেবে সরকার!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম

জাতীয় ক্রীড়াঙ্গনকে পেশাদার কাঠামোয় আনতে বড় কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের বেতনের আওতায় আনা, ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রম মূল্যায়ন, তৃণমূলভিত্তিক নির্বাচন এবং অকার্যকর ফেডারেশন পুনর্গঠনের মতো একাধিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন তিনি।

আজ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ-এর অধিভুক্ত ৫১টি ফেডারেশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর সাংবাদিকদের সামনে এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর বড় অংশই আর্থিক সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতায় ভুগছে। ক্রিকেট ছাড়া অধিকাংশ খেলাতেই পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা নেই। ফুটবল জনপ্রিয় হলেও মানসম্মত মাঠ ও স্টেডিয়ামের ঘাটতি প্রকট। অনেক ফেডারেশনই সীমিত বাজেট, অনুশীলন সুবিধার অভাব এবং নিজস্ব অফিস না থাকার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সামগ্রিক মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

আমিনুল হক বলেন, আমরা ফেডারেশনগুলোর কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে গত এক বছরের কর্মকাণ্ডের প্রতিবেদন চেয়েছি। এটা আমাদের মূল্যায়ন ও পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।

নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘খেলা হবে পেশা’ বাস্তবায়নে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়মিত বেতন প্রদানের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন আমিনুল হক। এনিয়ে তিনি বলেন, ফেডারেশনগুলোর কাছে আমরা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের তালিকা চেয়েছি। আমরা তাদের বেতনের আওতায় আনতে চাই। সরকারের পক্ষ থেকে খেলোয়াড়দের বেতনের ব্যবস্থা করা হবে। কোন খেলোয়াড়দের কোন গ্রেড, এগুলো নিয়ে কাজ করতে হবে। রোজার মধ্যে এগুলো করে ঈদের পর বাস্তবায়ন করতে চাই।’

ফেডারেশন নির্বাচন প্রসঙ্গেও অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সুন্দর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করতে চাই। উপজেলা, জেলা-বিভাগ থেকে শুরু হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়া। এরপর ফেডারেশনে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য সরকারের।

বর্তমানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে ৫২টি ফেডারেশন রয়েছে, যদিও বৈঠকে ৫১টির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমজাতীয় খেলাকে ঘিরে একাধিক ফেডারেশন থাকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ৫১ ফেডারেশনের মধ্যে অনেক ফেডারেশন ফাংশন করতে পারছে না। কেন পারছে না, সেগুলো আমরা দেখব। সমজাতীয় খেলাগুলোকে একটা সংস্থার অধীনে আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

এছাড়া ক্রীড়া সরঞ্জাম আমদানিতে উচ্চ করের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। বিদেশ থেকে সরঞ্জাম আনতে বড় অঙ্কের কর পরিশোধ করতে হওয়ায় অনেক ফেডারেশন সমস্যায় পড়ে। এক্ষেত্রে কর মওকুফ বা কর কমানোর জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর