ঋণ দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে উধাও এনজিও কর্মকর্তারা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় বিনিয়োগের বিপরীতে বেশি পরিমাণ ঋণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘আলো সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি এনজিওর বিরুদ্ধে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা কনেশ্বর, পূর্ব ডামুড্যা ও ইসলামপুর ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে অফিস বন্ধ করে চলে গেছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার উত্তর ডামুড্যা বকুলতলা এলাকায় সংস্থাটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে ভুক্তভোগীরা এসব অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, ঋণ দেওয়ার কথা বলে সঞ্চয় ও অন্যান্য খাতে টাকা নেওয়ার পর নির্ধারিত দিনে অফিসে এসে সংস্থার কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

কনেশ্বর ইউনিয়নের ছাতিয়ানি এলাকার বাসিন্দা কাউসার হোসেন বলেন, চলতি মাসের প্রথম দিকে ‘আলো সংস্থা’র ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের এলাকায় গিয়ে হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ এবং এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা জানান। পরে ১০ নারীকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে ভর্তি বাবদ ২৫০ টাকা নেওয়া হয়।

কাউসার বলেন, গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ম্যানেজার হাবিব ও ফিল্ড অফিসার নাজমুল হাসান তাদের জানান, রোববার সঞ্চয় জমা দিলে সোমবার ঋণ দেওয়া হবে। পরে ঋণ পাওয়ার জন্য প্রতি লাখে ১০ হাজার টাকা করে জমা দেওয়া হয়। ১০ জন মিলে তারা মোট এক লাখ ২৫ হাজার টাকা দেন। কিন্তু সোমবার ঋণ নিতে অফিসে গিয়ে সংস্থার কাউকে পাওয়া যায়নি।

পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের হাওলাদার কান্দি এলাকার মাহফুজা বেগম বলেন, সংস্থাটির একজন ব্যক্তি মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তার বাড়িতে আসেন। পরে সেলাইসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ এবং এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার কথা জানান। এরপর তিনি ২০ সদস্যের একটি দল গঠন করেন। রোববার তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা করেন। সোমবার ঋণ নিতে অফিসে গিয়ে সংস্থার কাউকে পাওয়া যায়নি।

আরেক গ্রাহক মাকসুদা বেগম বলেন, তার কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকা সঞ্চয় নেওয়া হয়েছে। সোমবার তাকে দেড় লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। তবে অফিসে এসে সংস্থার কাউকে না পেয়ে তিনি ঋণ পাননি।

এদিকে সংস্থাটিতে সদ্য চাকরি পাওয়া অফিস সহায়ক মুক্তা আক্তার বলেন, রোববার বিকেল ৪টার দিকে অফিসের খাদিজা নামের এক কর্মকর্তা ফোন করে অফিস বন্ধ করতে বলেন। তিনি অফিস বন্ধ করে দেন। সোমবার গ্রাহকরা অফিসে আসতে থাকলেও সংস্থার কোনো কর্মকর্তা আসেননি।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গ্রাহকদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে একজন তাকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর