অংশীজনদের সম্পৃক্ত না করে একতরফাভাবে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খসড়া অধ্যাদেশ স্বল্প সময়ের জন্য লোক-দেখানোভাবে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দায় কাটানো হয়েছে।
‘অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ প্রণয়ণে সংস্কার বিমুখতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন এসব কথা বলেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সোমবার (১২ জানুয়ারি) ধানমন্ডির (পুরাতন ২৭) নিজস্ব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রাষ্ট্র সংস্কারের মূলমন্ত্র তথা জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার পরিপন্থী অনেক বিধান রচিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সাইবার সুরক্ষা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা, ইত্যাদি অধ্যাদেশসমূহের প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থের তুলনায় আমলাতন্ত্রসহ ক্ষমতাসীনদের একচ্ছত্র ও জবাবদিহিহীন কর্তৃত্বের চর্চা অব্যাহত রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব অধ্যাদেশ প্রণীত হয়েছে তার মধ্যে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ ও এনজিও খাতের জন্য প্রযোজ্য ফরেইন ডোনেশনস (ভলান্টারি অ্যাক্টিভিটিজ) রেগুলেশন সংশোধনমূলক অধ্যাদেশের মতো ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় সকল ক্ষেত্রে প্রতিরোধক মহল, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী মহলের অন্তর্ঘাতমূলক অপশক্তির কাছে সরকারের নতি স্বীকারের ফলে সংস্কার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
ইফতেখারুজ্জামানের অভিযোগ, আইন প্রণয়ন ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের চর্চার উদহারণ সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং কোনো কোনো অংশীজন পরামর্শ দেয়ার কারণে সরকারের বিরাগভাজনের হয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো অংশীজনদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার হয়েছে।



