এক বছরে ৫ গিগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের নতুন রেকর্ড আদানির

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম

ভারতের শীর্ষ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড (এজিইএল) এক বছরে গ্রিনফিল্ড সক্ষমতা সংযোজনে চীনের বাইরে বিশ্বে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৫ হাজার ৫১ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এই সংযোজনের ফলে এজিইএলের মোট উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৩ গিগাওয়াটে, যা ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষস্থানকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

নতুন সংযোজিত সক্ষমতার মধ্যে রয়েছে ৩ হাজার ৪০৯ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ, ৬৮৬ মেগাওয়াট বায়ুবিদ্যুৎ এবং ৯৫৬ মেগাওয়াট বায়ু-সৌর হাইব্রিড বিদ্যুৎ। এতে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সামগ্রিকভাবে এজিইএল বছরে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করবে।

নতুন সক্ষমতার বড় অংশ স্থাপিত হয়েছে দেশটির গুজরাটের খাভদায়, যেখানে বিশ্বের বৃহত্তম নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প নির্মাণ করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় ৫৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে ৩০ গিগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে ৯ হাজার ৪১৩ মেগাওয়াট সক্ষমতা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে।

প্রকল্পটিতে উন্নত বাইফেসিয়াল সোলার মডিউল, সোলার ট্র্যাকার এবং ৫.২ মেগাওয়াট ক্ষমতার আধুনিক বায়ু টারবাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানিবিহীন রোবোটিক পদ্ধতিতে সোলার প্যানেল পরিষ্কার করা হচ্ছে, যা পানির ব্যবহার প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে।

এ ছাড়া খাভদা প্রকল্পে ১ হাজার ৩৭৬ মেগাওয়াট-আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম চালু হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একক স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত। মাত্র আট মাসে এটি চালু করা সম্ভব হয়েছে, যা জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে জানিয়েছে এজিইএল।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সাগর আদানি এই অর্জনকে ভারতের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই অগ্রগতি বৈশ্বিক সবুজ জ্বালানি রূপান্তরে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ গিগাওয়াট সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

টেকসই উন্নয়ন সূচকেও প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালে এনার্জি ইন্টেলিজেন্সের গ্লোবাল টপ ১০০ গ্রিন ইউটিলিটিজ তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে এজিইএল। এ ছাড়া এনএসই সাসটেইনেবিলিটি রেটিংসে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো বিদ্যুৎ খাতে ভারতের শীর্ষ টেকসই প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

বর্তমানে ভারতের ১২টি রাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এজিইএল। সৌর, বায়ু, হাইব্রিড ও এনার্জি স্টোরেজ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে প্রতিষ্ঠানটি দেশের কার্বনমুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।

খাভদা প্রকল্পের দ্রুত অগ্রগতি এবং বর্তমান ১৯ দশমিক ৩ গিগাওয়াটের বিপুল পরিমাণ উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি ভারতের কার্বনমুক্তির জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সংগতি রেখে কাজ করছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ গিগাওয়াটের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর