‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার 

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৪ মার্চ ২০২৬, ০২:৩৬ পিএম

সামাজিক সুরক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে ‌‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। যা ডিজিটাল অবকাঠামোর মাধ্যমে সহায়তার ক্ষেত্রে অপচয় কমাতে সাহায্য করবে।

আজ বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

ঢাকায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) ও ডেইলি স্টার আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা: নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এ গোলটেবিলের আয়োজন করেছে।

বৈঠকে উপদেষ্টা সরকারের ম্যান্ডেটের পাঁচটি ভিত্তিমূল তুলে ধরেন। এগুলোর মধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার, বৈষম্যহীন আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার অন্যতম।

রাশেদ আল জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঋণের যে পাহাড় গড়ে উঠেছে, তা অর্থনীতিকে এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। এই সংকট উত্তরণে সরকার অপচয় রোধ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে, জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা আনতে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি কমিয়ে আনতে ‘রিনেগোশিয়েশন’ এবং ‘সিস্টেম লস’ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

রাশেদ আল বলেন, উৎপাদন, বিনিয়োগ ও ব্যবসার প্রসারে রাজস্ব নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনা হবে। একই সঙ্গে ২০৩৫ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

ফাহমিদা খাতুন জানান, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে তিন দশমিক ৪৯ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। শিল্প ও সেবা খাতে গতি কমে যাওয়া এবং বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা এ পতনের বড় কারণ। তবে, ২০২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি বেড়ে চার দশমিক ৫০ শতাংশে উঠেছে। এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরে ধীরে গতি ফেরার ইঙ্গিত দিলেও, তা এখনও স্থায়ী পুনরুদ্ধার বলা যাচ্ছে না।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, উচ্চ মূল্যস্ফীতি গত দুই বছরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় চাপ তৈরি করেছে। ২০২৪ অর্থবছরের জুনে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক সাত শতাংশ। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তা কমে আট দশমিক ৬৬ শতাংশে নেমেছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমায় পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন