চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমসহ আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত ওয়াকিল আহমদ ওরফে বিহারী বগার বাবা মো. জাবেদ।
তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে তার বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আদালত নালিশি মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহিদুল ইসলামের আদালতে মামলাটি করেন ৬৬ বছর বয়সী মো. জাবেদ।
মামলায় আসামি করা হয়েছে, খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আবদুর রহিম, এসআই শাহ পারভেজ, এসআই মো. আনোয়ার হোসেন, বাবু মেম্বার ওরফে যুবলীগ বাবু, মিজানুর রহমান, মো. আমান উল্লাহ আমান, সাংবাদিক মো. আরিফ হোসেন ও আসাদ উল্লাহকে। মামলার নথিতে তাদের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় জাবেদ অভিযোগ করেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে ২ নম্বর আসামির নেতৃত্বে ১-৮ নম্বর আসামি তার ও এলাকার সাধারণ ও নিরীহ মানুষের বাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করেন। এ সময় কোনো বৈধ কারণ না দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারি অস্ত্র নিয়ে বিভিন্ন ঘরে তল্লাশি ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে আসামিদের কয়েকজন তার বসতঘরে ঢুকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে ঘরের আসবাব, দরজা, জানালা ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করেন। এতে আনুমানিক তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়।
এরপর তার পুত্রবধূ রীখা বেগমের ঘরে ঢুকে ওয়ার্ডরোব ভেঙে নগদ আট লাখ টাকা ও তিন ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। চেইনটির আনুমানিক মূল্য ছয় লাখ টাকা, একই সঙ্গে রীখা বেগমের শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, আসামিরা জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান। তাদের গালাগাল করা হয়। মামলা করলে কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিলে পরিণতি খারাপ হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ বাদীর।
জাবেদের অভিযোগ, তার ছেলে বগাকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে তার পরিবারের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করেন। তাদের কর্মকাণ্ডে স্থানীয় মানুষও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
মামলায় বাদীপক্ষের সাতজন সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন বাদী জাবেদ, রীখা বেগম, নয়ন সরকার, নুরুল নাহার, দেলোয়ার আলম, মোহাম্মদ আলম ও উদয় রোমান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী এস এম মঈনুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর নালিশি মামলা শুনে তা আমলে নিয়েছেন। একই সঙ্গে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এর আগে ওয়াকিল আহমদ ওরফে বিহারী বগাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার অনুসারীদের হামলায় খুলশী থানার ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ঘটনায় বগার বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।
খুলশী এলাকায় জায়গা দখল, মারামারি ও অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে বগার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিতেন। সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে।
সম্প্রতি পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনায়ও বগাকে মামলার ২ নম্বর আসামি করা হয়। বগাকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে তার অনুসারীদের হামলায় পুলিশ সদস্যরা আহতও হন। এর মধ্যেই সেই বগার বাবা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেন।
