কটূক্তির অভিযোগে আটক শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছেড়ে দিল পুলিশ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে আটক স্কুলশিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। পরে তাকে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান।

পোস্টে মাহদী আমিন বলেন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে শ্রেণিকক্ষে এক স্কুল শিক্ষকের কটূক্তি ও আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অধিবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাদের বিক্ষোভের পর পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

তিনি জানান, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন। পরে সংশ্লিষ্ট থানাকে শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ পরে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে নিরাপদে তার বাসায় পৌঁছে দেয়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরে মাহদী আমিনের পোস্টে বলা হয়, মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে। প্রত্যেক মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত তার নিজস্ব। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত।

পোস্টে আরও বলা হয়, ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এই সম্মানই গণতন্ত্রের শক্তি। ইতিবাচক আচরণ, পারস্পরিক সম্মান ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি সমাজকে শক্তিশালী করবে বলে প্রধানমন্ত্রী মনে করেন।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকা থেকে গোলাম কিবরিয়া লালনকে আটক করে পুলিশ। তিনি দৌলতপুরের প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক।

স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বেলা ৩টার দিকে বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালে সম্প্রতি জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শিক্ষক লালন মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওই সময় শিক্ষক প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে তাদের উদ্দেশে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। বিষয়টি নিয়ে ক্লাসে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে শিক্ষার্থীরা বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক লালনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর