কাল থেকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু 

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৬ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৭ পিএম

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সংরক্ষণে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ-২০২৬’। চলবে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত। এ সময়ে দেশের নদী ও সাগরে জাটকা ধরা সম্পূর্ণ নিষেধ বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

সোমবার (৬ এপ্রিল) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়টির প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী প্রমুখ।

মন্ত্রী বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগে ইলিশের টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধিসহ ইলিশ মাছের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং এ লক্ষ্যে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। জাটকা ও প্রজননক্ষম ইলিশ সংরক্ষণ, নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইনের সফল বাস্তবায়ন অন্যতম। এসব কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়নের ফলে ইলিশ উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। নদী ভরাট, জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ ও মৎস্যসম্পদের ওপর ক্রমাগত চাপ বৃদ্ধির ফলে ইলিশ মাছ উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ইলিশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। জনসাধারণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জেলেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ, গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখা এবং দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ইলিশ মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান প্রায় ৯.৭৯ শতাংশ। দেশজ জিডিপিতে ইলিশের অবদান প্রায় ১ শতাংশ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশের বেশি আহরিত হয় এদেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে। ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য তথা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশর প্রায় ৬ লক্ষ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০-২৫ লক্ষ লোক ইলিশ পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরী, বরফ উৎপাদন, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি ইত্যাদি কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই ইলিশ সম্পদের উন্নয়নের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষের হাতের নাগালে ইলিশ পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

যাত্রা সংরক্ষণ সপ্তাহে, মৎস্যজীবী, ইলিশ ব্যবসায়ী, আড়তদার, ভোক্তাসহ সকল শ্রেণির জনগণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও আগামী ৭ হতে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপন করা হবে। এ বছরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জাটকা ধরা থামাই যদি, ইলিশে ভরবে সাগর-নদী’। 

দেশের ইলিশ সমৃদ্ধ ২০টি জেলায় ‘জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২৬’ উদযাপন করা হবে। এ লক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় এবং মাঠ পর্যায়ে অর্থাৎ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উপযোগী কর্মসূচি পালিত হবে। 

জ্বালানি সংকটে সমুদ্রে ট্রলার যেতে পারছে না এ নিয়ে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি বিষয়টি বৈশ্বিক সমস্যা। তেলের আমাদের মেজর সমস্যা নয়। আর যেখানে যা প্রয়োজন তা মেটানো হচ্ছে।

সপ্তাহটি পালন সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের ইলিশ সম্পদ বৃদ্ধিই মূল উদ্দেশ্য। তাই বাংলাদেশ ও প্রতিবেশী দেশেও একই সময়ে কাজ করছে। কয়েকদিন পরেই পহেলা বৈশাখ আসছে। ইলিশ কী এবারো অসাধারণ লোকদের খাবার হবে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত কীভাবে দাম সমন্বয় করা যায় তা বের করতে মৎস্য অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। 

সরকার নদীতে ড্রেজিং করবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা খাল খনন ও নদী খনন কার্যক্রম নিয়েছি। অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোথায় কোথায় অবৈধ জাল তৈরি হয় তা আমরা নির্ধারণ করে ফেলেছি। তাদেরকে ধরা হবে। 

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, জাটকা সপ্তাহ চলাকালে জেলেদের জন্য চাল, ডাল, আটা, লবণ, চিনি ও আলুসহ দুই মাসে ৪০ হাজার জেলেকে ৬ হাজার টাকার পণ্য দেওয়া হচ্ছে। আরো প্রয়োজন হলে এমপিদেরকে তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন