কিছুক্ষণ বন্ধের পর আবারও খেলা শুরু, সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে সাদমান

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ পিএম

আলোকস্বল্পতার কারণে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৭০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রান করেছে বাংলাদেশ। ৯৬ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন সাদমান ইসলাম, অপর অপরাজিত ব্যাটার লিটন দাসের সংগ্রহ ৭ রান। 

মিরপুর টেস্টে দিনের ৭০তম ওভার শেষে আলোকস্বল্পতায় খেলা বন্ধ করতে বাধ্য হন আম্পায়াররা। আকাশে মেঘ থাকায় আরও আগে থেকেই ফ্লাডলাইট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আকাশের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি আম্পায়াররা। 

এর আগে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন তাওহীদ হৃদয়। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে একটু সুস্থ হয়ে ওঠার দুই বল পরই (৬৫.৫ ওভার) আবারও বসে পড়েন হৃদয়। জশুয়া বিশপের ওই ওভারে পঞ্চম বলে একটি রান নেওয়ার পর আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারেননি। বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ ধরে বসে পড়েন। চোট তাহলে গুরুতর! তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে মিরপুরে পেসারদের জন্য শুরুটা ছিল দাপুটে। গতি আর সুইংয়ের মিশেলে সফরকারী পেসাররা স্বাগতিক ওপেনারদের বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেন। তবে পরে স্পিনাররা এসেও বেশ টার্ন পেয়েছেন উইকেটে। এসবের মাঝে ২ উইকেটে ৯৬ রান তুলে বাংলাদেশ প্রথম সেশনের খেলা শেষ করে।

ইনিংসে এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করা সাদমান ইসলাম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৯৫ বলে। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দশম এবং ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে চতুর্থ ফিফটি। ৫ চারে বাঁ-হাতি এই ওপেনার ইনিংস সাজিয়েছেন। শান্তর বিদায়ে বড় জুটির আশায় থাকা বাংলাদেশ হোঁচটই খেলো বলা যায়। দ্বিতীয় উইকেটে মুমিনুল হক ও সাদমানের ৫৯ রানের জুটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

ওয়ারিকানের বলটি হালকা বাঁক খেয়েছে, তবে স্টাম্প ও ইম্প্যাক্ট লাইনে থাকা ডেলিভারি শান্তর পায়ে আঘাত করার পর ‍শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। রোস্টন চেজ রিভিউ নিলে দেখা যায় বল মিডল-লেগ স্টাম্পে গিয়ে লাগত। ফলে ৪২ বলে ১৬ রান করে ফিরলেন শান্ত। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম আউট হন জেইডেন সিলসের অফ স্টাম্পের বাইরে থাকা বলে কানা লাগিয়ে।

বলটি বেরিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে কাভার দিয়ে খেলার চেষ্টা ছিল তানজিদের (৭)। কিন্তু ব্যাটের কানা স্পর্শ করে সেটি স্লিপে থাকা জাস্টিন গ্রিভসের হাতে জমা পড়ে। ৯ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর সাদমান ও মুমিনুল হকের জুটি স্বাচ্ছন্দ্যেই আগাচ্ছিল। কিন্তু এরপর ধৈর্যচ্যুতি ঘটল মুমিনুলের। হাওয়ায় ভাসানো বল ক্রিজ ছেড়ে মিড-অফে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। কিন্তু ব্যাটে ঠিকঠাক না হওয়ায় সেটি শামার জোসেফকে ফাঁকি দিতে পারেনি। মুমিনুল ৫১ বলে ২৮ রান এবং তার সঙ্গে সাদমানের জুটি ভাঙে ৫৯ রানে।

মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার পঞ্চম ওভারে টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন সাদমান ইসলাম। তবে আরেকপ্রান্তে নড়বড়ে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত’র ব্যাট। পরের ওভারেই জোমেল ওয়ারিকানের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন বাংলাদেশ অধিনায়ক। রিভিউ নিলেও কাজে আসেনি, তার বিদায়ে ১১০ রানে তৃতীয় উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর