কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় গাছের সঙ্গে সাঁটানো মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের নামের একটি তালিকার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
তালিকায় কয়েকজনের নাম, বাবার নাম, বাড়ির নাম এবং তারা মাদকসেবী নাকি বিক্রেতা, সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, উপজেলার নাইঘর উত্তরপাড়া এলাকার একটি গাছের গায়ে একটি ছাপানো কাগজ সাঁটানো হয়েছে। কাগজটির শিরোনামে ওই এলাকার মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের নামের তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকায় ১১ জনের নাম রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে ‘সেবন’, কারও ক্ষেত্রে ‘সেবন ও বিক্রেতা’, আবার কারও ক্ষেত্রে ‘সেবন, বিক্রেতা ও ডিলার শিপ’ এ ধরনের পরিচয় লেখা রয়েছে।
ছবির নিচে সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে কে বা কারা তালিকাটি তৈরি করে গাছে সাঁটিয়েছেন তা ছবিতে উল্লেখ নেই।
ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এমন উদ্যোগকে কেউ কেউ ইতিবাচকভাবে দেখলেও, কারো নাম প্রকাশ্যে তালিকাভুক্ত করে অভিযোগ তোলার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যদিও তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের কারও সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে কালবেলার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবির তালিকায় থাকা নামগুলোকে মাদকসেবী বা কারবারি হিসেবে নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদকের বিস্তার রোধে সামাজিক উদ্যোগের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি থানা পুলিশের নজরে এসেছে। মাদকের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে পুলিশ তা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকাটিও যাচাই করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যাচাই ছাড়া কারো বিরুদ্ধে অভিযোগকে সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।’
