তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সংক্রমণ শূন্যে নামিয়ে আনার আশা প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তার দাবি, ধারাবাহিক প্রতিরোধ কার্যক্রমে জেলায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে কমেছে। তবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যুর তথ্যও দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১০ অক্টোবর) হাটহাজারী পৌরসভা ও উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৫টি চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় একযোগে মশকনিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জেলা প্রশাসক নিজেই ফগার মেশিন দিয়ে মশকনিধনের ওষুধ ছিটান। এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রয়োগ করা হয় লার্ভিসাইডও।
এর আগে সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলী উপজেলায় একই ধরনের বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ অভিযান শেষে এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যু হয়নি বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি জেলায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে। ‘পরিচ্ছন্ন করি নগর-গ্রাম, গড়ি নান্দনিক চট্টগ্রাম’ স্লোগানে গত ২৫ জুলাই শুরু হওয়া কর্মসূচির প্রথম দিন প্রায় ৬ হাজার ২০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও স্থাপনা থেকে অপসারণ করা হয় প্রায় ১৩৫ টন বর্জ্য।
পরবর্তী সময়ে জেলার প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জলাশয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বিশেষ ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণেও পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতরা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তার ভাষ্য, কোনো ব্যক্তি বা একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
হাটহাজারীর কর্মসূচিতে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ছিল, অক্টোবরে তা অনেকটাই কমেছে। ডেঙ্গুতে প্রাণহানিও কমেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে ৩ অক্টোবর কর্ণফুলী উপজেলায় এক কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসক জানিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গুতে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডেঙ্গুতে প্রাণহানি ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা চাই না, আমাদের কোনো একটা প্রাণ এভাবে হারিয়ে যাক। কোনো একটা বাতি এভাবে নিভে যাক। কারণ, আমাদের এই বাতিগুলো আমাদের আলোকিত করবে। একদিন বিশ্বমঞ্চে আমাদের নিয়ে যাবে।
ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা নির্ধারণ এবং পরীক্ষার কিট সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কর্মসূচিতে তরুণদের অংশগ্রহণে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি সমাজের নেতিবাচক ঘটনার পাশাপাশি ইতিবাচক উদ্যোগগুলোও তুলে ধরতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হাটহাজারীর কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।
এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতরা ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
