চট্টগ্রাম নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এ পর্যন্ত ১১টি মাঠের উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আরও কয়েকটি মাঠের উন্নয়নকাজ চলছে। এ তথ্য জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) নগরের কল্পলোক আবাসিক এলাকার ১ নম্বর খেলার মাঠ ও পার্কের সংস্কারকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। কল্পলোক মডেল মসজিদ চত্বর মাঠ প্রাঙ্গণে কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মেয়র বলেন, উন্নয়ন ও প্রস্তুতকরণের কাজ শেষ হওয়া মাঠগুলোর মধ্যে রয়েছে হালিশহর এইচ ব্লক মাঠ, হালিশহর বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, হালিশহর এস ব্লক মাঠ (বি ব্লক সংলগ্ন) ও হালিশহর বিডিআর মাঠসহ আরও কয়েকটি মাঠ।
তিনি জানান, বর্তমানে হালিশহর শিশু পার্ক মাঠ, হাজী মোহাম্মদ মহসীন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও বাকলিয়া স্কুল মাঠের উন্নয়নকাজ চলছে। আগ্রাবাদ জাম্বুরি মাঠের উন্নয়নকাজ রয়েছে শেষ পর্যায়ে। নগরের অন্যান্য ওয়ার্ডেও খেলার মাঠ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শাহাদাত হোসেন বলেন, খেলাধুলা সুস্থ দেহ ও মন গঠনে ভূমিকা রাখে। পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ তৈরি করা গেলে মাদকাসক্তি, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের মতো সামাজিক সমস্যা প্রতিরোধেও সহায়ক হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ গড়ে তোলাকে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী ৪১ ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি। খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত স্থান নিশ্চিত করাও এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কল্পলোক আবাসিক সমাজকল্যাণ সমিতির সভাপতি এম. আব্দু শুক্কুর। মুখ্য উদ্বোধক ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। সংস্কারকাজের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন লিপু।
আলী আকবরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আবদুল্লাহ আল হারুন, অ্যাডভোকেট আজিজুল হক, আমির হক ও মোহাম্মদ আবুল হোসাইন বক্তব্য দেন। বক্তারা মাঠ ও পার্ক সংস্কারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং এগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন।
