চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হঠাৎ করে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ২০ দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে অন্তত ২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তবে তাদের মধ্যে অনেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ সম্ভাব্য রোগীর ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হচ্ছে। যার মধ্যে দৈনিক ৩ থেকে ৪ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সর্বসাধারণের মধ্যে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান জানান, গত ২০ দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২৫ রোগী ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে তাদের অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ডেঙ্গুর পাশাপাশি হাজীগঞ্জে হাম রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। শিশুদের মধ্যে হামজনিত উপসর্গ নিয়ে রোগী আসার বিষয়টিও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের নজরে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় পর্যায়ের তথ্যেও চলতি সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি সক্রিয় রয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বরের ড্যাশবোর্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ২৩২টি ডেঙ্গু রোগী শনাক্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। একই সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম পর্যবেক্ষণ প্ল্যাটফর্মে নিয়মিতভাবে হাম পরিস্থিতির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশুদের ক্ষেত্রে হাম প্রতিরোধে টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে কি না, সে বিষয়েও অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, ডেঙ্গু ও হাম পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
