চৈত্রের বৃষ্টিতে নগরে জলাবদ্ধতা, খাল খনন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ চসিকের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

চৈত্র মাসের অল্প বৃষ্টিতেই চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা আবারও জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছে। নগরের নালা-নর্দমা ও খালগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার এবং অনেক স্থানে দখল ও বর্জ্যে ভরাট থাকায় সামান্য বৃষ্টির পানিও দ্রুত সরে যেতে পারছে না। এতে সড়কে জমে থাকা ময়লা ও কাদাযুক্ত পানি পথচারী, শিক্ষার্থী ও অটোরিকশা চালকদের চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নগরবাসী আশঙ্কা করছেন, সামনে ভারী বর্ষণ শুরু হলে নগরের জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ঝড়ের সম্ভাবনা জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যা নগর ও উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। সামান্য বৃষ্টিতেই যখন সড়কে পানি জমে থাকে, তখন ভারী বর্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।

বৃহস্পতিবার স্বল্প সময়ের হালকা বৃষ্টি হলেও নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বাকলিয়া থানাধীন নোমান কলেজ সড়ক এলাকায় নালা পরিষ্কার না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করতে পারেনি। সড়কের ওপর জমে থাকা ময়লা ও কাদাযুক্ত পানি পথচারী, শিক্ষার্থী ও অটোরিকশা চালকদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

একই ধরনের পরিস্থিতি নগরের কালামিয়া বাজার ও হাটখোলা সড়ক এলাকাতেও দেখা গেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, দোকানের সামনে জমে থাকা বর্জ্য ও ময়লার কারণে নালার মুখ বন্ধ হয়ে থাকে, ফলে বৃষ্টির পানি সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না এবং দ্রুত জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।

দুর্ভোগের সবচেয়ে বড় চিত্র দেখা গেছে নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকায়। এখানে সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে, যা আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাসপাতাল এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। প্রবর্তক মোড় এলাকায় সব সময়ই যানবাহনের চাপ বেশি থাকে এবং আশপাশে হাসপাতাল ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকায় সামান্য জলাবদ্ধতাও বড় ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সড়কের পাশেই খাল থাকা সত্ত্বেও পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

নগরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নালা দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও কোথাও নালা পরিষ্কার করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার ময়লা-আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। অনেক স্থানে দোকান ও বাসাবাড়ির সামনে বর্জ্য ফেলে রাখার কারণে নালার মুখ বন্ধ হয়ে আছে, যা পানি প্রবাহে বড় বাধা সৃষ্টি করছে। সচেতনতার অভাব এবং নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে এই সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে সমাধান হচ্ছে না। বিশেষ করে নগরের বিভিন্ন নালা দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার অবস্থায় পড়ে আছে। এসব নালা নগরের বৃহত্তর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকায় একটি নালা বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পড়ে এবং অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে কোটি টাকার প্রকল্প চললেও বাস্তবে খাল খনন ও বর্জ্য পরিষ্কার না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন খাল ঘুরে দেখা গেছে, কাগজে-কলমে কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও বাস্তবে খালের বড় অংশে খনন বা বর্জ্য অপসারণের কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই। অথচ এসব কাজের বিপরীতে কোটি টাকার বিল পরিশোধ করা হয়েছে কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে বলে। ফলে প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতায় ডুববে এসব এলাকা, আর এর ভোগান্তি পোহাতে হবে নগরের প্রায় ৭০ লাখ মানুষকে।

চট্টগ্রাম নগরজুড়ে মোট খালের সংখ্যা ৫৭টি। কিন্তু জলাবদ্ধতা নিরসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলোতে সংস্কারের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মাত্র ৩৬টি খাল। বাকি ২১টি খালকে সংস্কারের বাইরে রেখেই তড়িঘড়ি করে তিন সংস্থা চারটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করে। এসব প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর বাইরে চট্টগ্রাম নগরের বাকি ২১টি খাল পরিষ্কারের জন্য সরকার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। সেই ১০ কোটি টাকার বিল উত্তোলন হয়ে গেলেও সেখানে নামমাত্র কাজ দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। বরং প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। খাল-নালায় পড়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত। যথাযথ সমীক্ষা ও পরিকল্পনা ছাড়া নেওয়া এসব প্রকল্পের খেসারত গুনতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে খাল খনন ও বর্জ্য অপসারণের কাজ পায় একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রাইসা কনস্ট্রাকশন তিনটি খাল—শায়েরপাড়া খাল, ছড়ার খাল ও নাজির খালের কাজ পায়। অন্যদিকে শিরোপা ট্রেডার্স পায় রসুলবাগ খাল, গুলজার খান খাল ও বড়পোল এলাকার খালের কাজ। এসব খালের জন্য কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ খালেই কাজের তেমন কোনো অগ্রগতি নেই বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

সরেজমিনে নগরীর কর্নেলহাট এলাকার সরোজিনী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাইসা কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শায়েরপাড়া খাল, ছড়ার খাল ও নাজির খালের বর্জ্য পরিষ্কার ও খননের কাজ পায়। এই তিনটি খালের জন্য এক কোটি ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু খালগুলো ঘুরে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে পলিথিন, ময়লা ও পলিতে ভরে আছে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত। কোথাও বড় ধরনের খননের চিহ্ন দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত ২০ থেকে ২২ বছর এসব খাল সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয়নি, এবারও কাজের নামে সামান্য কিছু অংশ পরিষ্কার করে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহাবুদ্দিন বলেন, ‘খাল পরিষ্কারের কথা শুনে আমরা ভেবেছিলাম পুরো খাল খনন হবে। কিন্তু কয়েকদিন কিছু শ্রমিক এসে একটু ময়লা তুলে চলে গেছে। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। কিন্তু শুনছি কাজ নাকি শেষ, বিলও তুলে ফেলেছে। আমরা তো কোনো কাজই দেখিনি।’

নগরীর কর্নেলহাটের সরোজিনী এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে রাইসা কনস্ট্রাকশনের বাচ্চুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের এক সদস্য ফোনে জানান, তিনি অসুস্থ রয়েছেন।

অপরদিকে নগরের বাকলিয়া এলাকায় রসুলবাগ খাল, গুলজার খান এলাকা ও বড়পোল এলাকার খাল পরিষ্কার ও খননের দায়িত্ব পায় শিরোপা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই খালগুলোর জন্য মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় তিন কোটি ৬৬ লাখ টাকা। সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা ও পলিতে ভরাট হয়ে আছে, কোথাও খননের দৃশ্যমান কাজ নেই। স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে কিছু শ্রমিক এসে সামান্য ময়লা তুলে ছবি তুলে চলে যায়, এরপর আর কোনো কাজ দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল বলেন, ‘প্রতিবছর শুনি খাল পরিষ্কার হয়েছে, কিন্তু বর্ষা এলেই পানি উঠে ঘরে ঢুকে যায়। যদি খাল পরিষ্কার হতো তাহলে তো পানি থাকত না। কাজ না করেই টাকা তুলে নিচ্ছে এটাই আমরা মনে করি।’

স্থানীয় শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘খালগুলো আগের মতোই ভরাট হয়ে আছে। কোথাও খনন হয়নি। কিন্তু কাগজে কাজ শেষ দেখিয়ে বিল তুলে নেওয়া হচ্ছে। এগুলো তদন্ত হওয়া দরকার।’

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর বিভিন্ন স্থানের মোট ২৩টি খাল পরিষ্কারের দায়িত্ব নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এইসব খালের অনেকগুলোতেই বাস্তবে খনন ও বর্জ্য অপসারণ না করেই দশ কোটি টাকার বেশি বিল উত্তোলন করা হয়েছে। নিয়মিত খনন ও বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় খালগুলোতে জমে আছে পলিথিন, ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি। বর্ষা এলেই এসব খাল উপচে পড়ে আশপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। নগরবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর একই চিত্র দেখা গেলেও কাগজে-কলমে নিয়মিত খাল পরিষ্কার ও খননের কাজ দেখানো হচ্ছে। সরকারি প্রকল্পে কাজের অগ্রগতি যাচাই ছাড়া বিল পরিশোধ হলে দায় শুধু ঠিকাদারের নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও রয়েছে।

তবে এসব কাজের দায়িত্ব ছিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের। এ বিষয়ে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) (অ.দা) নাসির উদ্দীন রিফাতের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঠিকাদারদেরও প্রতিক্রিয়া আছে। শিরোপা কনস্ট্রাকশন ও রাইসা কনস্ট্রাকশন জানায়, খাল খনন একবারে শেষ হয় না, ময়লা জমে আবার অপসারণ করতে হয়। ২০২৫ সালে কাজ সম্পন্ন হয়েছে, ছবি, ভিডিও ও কাগজপত্র আছে, তারপর বিল নেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান চট্টগ্রাম নগরের বহদ্দারহাট বারইপাড়া ও ষোলশহরের সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকায় খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চট্টগ্রাম নগরের বাকি ২১টি খাল পরিষ্কারের জন্য সরকার ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। তিনি তখন বলেন, বিগত বছরগুলোতে খাল খননের নামে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাট হয়েছে এবং শহরের খাল-নালার দিকে নজর দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, শহরের ভেতরের সব খাল-নালার পানির প্রবাহ সমুদ্র ও নদীতে যাওয়ার পথ চালু করার কাজ শুরু করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা কমে।

সেই সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আগে সিডিএ, সিটি কর্পোরেশন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতিবছর নগরবাসী জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। এখন সব সংস্থা সমন্বয় করে কাজ করছে এবং ধীরে ধীরে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কিন্তু ২০২৫ সালে খাল পরিষ্কারের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হলেও ২০২৬ সালে এসে নগরীর বিভিন্ন খাল ঘুরে দেখা যায়, অনেক খাল এখনও ময়লা, পলিথিন ও পলিতে ভরাট হয়ে আছে। কোথাও খনন হয়নি, কোথাও বর্জ্য পরিষ্কার হয়নি, কিন্তু কাগজে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ফলে জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে প্রকল্প থাকলেও ভোগান্তি কমেনি নগরবাসীর, বরং প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে তিন সংস্থা চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দুটি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চার প্রকল্পে মোট ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা। প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে ৫ থেকে ১১ বছর ধরে। ইতিমধ্যে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

গত ১০ বছরে চট্টগ্রামে খাল-নালায় পড়ে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রকল্প এলাকায়। এসব মৃত্যুর একটিতেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও সেখানে কেউ দায় স্বীকার করেনি। প্রতিবেদনে সংস্থা দুটিকে দায়ী করা হলেও কারও বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নগরবাসীর প্রশ্ন খাল খনন ও বর্জ্য পরিষ্কার না হলে কোটি কোটি টাকার বিল গেল কোথায়। জলাবদ্ধতা নিরসনের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও যদি খাল খনন ও বর্জ্য পরিষ্কারের কাজ বাস্তবে না হয়, তাহলে এসব প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী এমন অভিযোগ এখন নগরজুড়ে। তদন্ত ছাড়া এসব অভিযোগের সত্যতা জানা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর