চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই এবং এখানকার মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উন্নত নগরের প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
রোববার (৪ অক্টোবর) জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি আলীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেন। আলীনগর স্কুলের প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি শিক্ষকদের বেতনসংক্রান্ত সমস্যার কথা জেলা প্রশাসককে জানান।
জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে শিক্ষক-কর্মচারীদের এক মাসের বেতনের অর্থ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। পরবর্তী মাসগুলোর বেতন নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এছাড়া বিদ্যালয়টির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব সরকারিভাবে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
শিক্ষার্থীরা সমাজের প্রাণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা যেসব সমস্যার কথা বলেছেন, সেগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জঙ্গল সলিমপুর সম্পর্কে তিনি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরকে একসময় ‘স্টেট উইদিন স্টেট’ বলা হতো। ৯ মার্চের আগে জায়গাটি সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত ছিল, এরপর সেই পরিস্থিতি বদলেছে। এখানে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জনজীবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ছয়টি সড়কের প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ কাজ করছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
তিনি জানান, সড়কগুলোর কাজ শেষ হলে মানুষের চলাচল সহজ ও নিরাপদ হবে একই সঙ্গে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াও সহজ হবে।
জঙ্গল সলিমপুরে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ২৩টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্য জায়গা নির্বাচন করা হয়েছে।
এদিন জেলা প্রশাসক সেসব জায়গা, নির্মাণাধীন বিজিবি ক্যাম্প ও চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিজ, জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন ও সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
