বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলা জাফরান। রাজসিক এ মসলার প্রায় ৯০ শতাংশই উৎপাদন হয় ইরানে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জাফরানের সরবরাহ কমে গেছে। সে কারণে বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি দেশের পাইকারি বাজারে এক মাসের ব্যবধানে এর দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ লাখ টাকা। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
মূলত বিরিয়ানি, পোলাও, ক্ষীর, পায়েস, মিষ্টি, বিভিন্ন ধরনের পানীয়তে সুগন্ধ বাড়াতে ও খাবারের সৌন্দর্য আনতে জাফরানের ব্যবহার হয়। আবার কসমেটিকস পণ্য, ত্বকের লোশনজাতীয় পণ্য কিংবা সুগন্ধি উৎপাদন এবং কিছু ভেষজ চিকিৎসায়ও এর ব্যবহার রয়েছে। পাইকারি বাজার ছাড়াও দেশের বিভিন্ন সুপারশপ ও বড় পাইকারি-খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এক গ্রামের বায়ুনিরোধী প্যাকেটে জাফরান বিক্রি হয়।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক মাস আগেও মানভেদে জাফরান প্রতি এক গ্রাম বিক্রি হতো ১৩০ থেকে সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা। তবে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর এর দাম প্রতিদিনই বাড়তে থাকে। সর্বশেষ গতকাল প্রতি গ্রাম জাফরান বিক্রি হয়েছে ৪২০-৪৫০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি কেজির দাম সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত। খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি গ্রাম বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকায়।
চাহিদা থাকলেও সরবরাহ সংকটে মূলত পণ্যটির দাম নিয়মিত বিরতিতে বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গুলিস্তান ফিডের স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘জাফরান একটি বিলাসী মসলা। তবে বড় অনুষ্ঠান, উৎসবের রান্নার আয়োজন কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁর বিশেষায়িত খাবার তৈরিতে এর ব্যবহার হয়। এ কারণে সীমিত পরিমাণ প্রয়োজন হলেও জাফরানের ব্যবহার কমছে না। ইরানের যুদ্ধের ফলে এর দাম প্রতিদিনই বাড়ছে।’
দেশে জাফরানের বাজার তুলনামূলক ছোট হলেও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বেশ জটিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বাংলাদেশে বছরে কয়েকশ কেজির বেশি জাফরানের চাহিদা নেই। ফলে আমদানিকারক বা ব্যবসায়ী পর্যায়ে সরাসরি বিশ্ববাজার থেকে এর সংগ্রহও সীমিত। মূলত মধ্যপ্রাচ্যপ্রবাসী বাংলাদেশীদের মাধ্যমে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জাফরান আসে, যা স্থানীয় বাজারের বড় অংশের চাহিদা পূরণ করে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রবাসীদের দেশে আসা কিছুটা কমে যাওয়ায় জাফরানের সরবরাহ চেইনে প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে দুবাইসহ উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আমদানিও সীমিত থাকায় মসলাপণ্যটির দাম বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বের সবচেয়ে দামি এ মসলার আন্তর্জাতিক বাজার আরো অস্থির হয়ে উঠতে পারে, যার প্রভাব পড়বে দেশের বাজারেও।
