জালিয়াতি করে বাড়ি লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম

ময়মনসিংহ নগরের ভাটিকাশর এলাকায় মায়ের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচতলা বাড়ি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মেয়ের বিরুদ্ধে। এমনকি বাড়ির ভাড়া থেকেও মাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রহিমা খাতুন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন।

রহিমা খাতুন ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিধবা। তার কোনো পুত্রসন্তান নেই। দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি ও মেয়ের স্বামী সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব। তাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন। 

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তার মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি ও মেয়ের স্বামী মিলে প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচতলা বাড়িটি তার কাছ থেকে নিজেদের নামে লিখে নেন। বাড়িটি লিখে নেওয়ার পর থেকেই তাদের আচরণে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে তিনি ওই বাড়ির একটি অংশে বসবাস করলেও বাকি ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভাড়া বাবদ পাওয়া অর্থের বেশির ভাগই তার মেয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রহিমা খাতুন বলেন, বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারছেন না তিনি। মেয়ের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। তার পক্ষে কেউ কথা বললেও তাকেও নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেয়ের স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েও তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

রহিমা খাতুন বলেন, জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে লিখে নেওয়া বাড়িটি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণ আইনে মেয়ে ও মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারজানা সুলতানা কাবেরি। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। আমি ঢাকায় বসবাস করি। বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতি মাসে ২৭ হাজার টাকা মাকে দেওয়া হয়।’

ফারজানা আরও বলেন, ‘বাকি টাকা আমরা দুই বোন মিলে নিই। মাকে ফোন করলে তিনি ভালোভাবে কথা বলেন না। এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তার সঙ্গে যোগাযোগ খুব কম হয়। মায়ের স্বজনদের ইন্ধনে তিনি আমার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছেন।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর