বিদেশি বিনিয়োগকৃত জ্বালানি খাতে শ্রমিকদের আইনসম্মত অধিকার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শ্রমিক মুনাফা অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) থেকে এসব খাতকে অব্যাহতি দিতে শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে-এমন অভিযোগ তুলেছে শেভরন বাংলাদেশ এমপ্লয়ী ইউনিয়ন।
সংগঠনটির দাবি, এই উদ্যোগ শ্রমিকস্বার্থবিরোধী এবং বিচারাধীন বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল। তাই সংশোধনের সব উদ্যোগ অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন শ্রমিক নেতারা।
এতে শেভরন বাংলাদেশ এমপ্লয়ি ইউনিয়নের সভাপতি মোস্তফা সোহেল ইকবাল, সহসভাপতি এস এম শাহরিয়ার আবেদীন, টাল্লো বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন আল রশিদসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শেভরন বাংলাদেশ এমপ্লয়ি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, শেভরন পরিচালিত জালালাবাদ, বিবিয়ানা ও মৌলভীবাজার গ্যাসক্ষেত্র এবং টাল্লো (বর্তমানে ক্রিস এনার্জি) পরিচালিত বানগুরা গ্যাসক্ষেত্র দেশের মোট গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ নিশ্চিত করছে। এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ সেখানে কর্মরত জাতীয় কর্মচারীদের আইনস্বীকৃত ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ২০২২ সালে শেভরন বাংলাদেশের শ্রমিকরা ২০১৩ সাল থেকে প্রাপ্য ডব্লিউপিপিএফ না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। রিটের শুনানি শেষে গত বছরের ১০ ডিসেম্বর হাইকোর্ট শ্রমিকদের পক্ষে রায় দেন। রায়ে তিন মাসের মধ্যে কোম্পানির নিট মুনাফার ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ তহবিল গঠন ও পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শ্রম মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে শেভরন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলেও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত কোনো স্থগিতাদেশ না দিয়ে আপিলটি নিয়মিত শুনানির জন্য পাঠান। ফলে বিষয়টি এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
শ্রমিক নেতাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে শ্রম বিধিমালা সংশোধনের যেকোনও উদ্যোগ আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ এবং আদালত অবমাননার শামিল। তারা আরও বলেন, ২০২২ সালে শ্রম বিধিমালা সংশোধনের মাধ্যমে শতভাগ রপ্তানিমুখী খাতের শ্রমিকদের ডব্লিউপিপিএফ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, যা এখনো হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন সামনে রেখে সংবেদনশীল সময়ে তড়িঘড়ি করে শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শ্রমিকদের ডব্লিউপিপিএফ অধিকার খর্ব করে বিদেশি কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তারা। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) সংশোধনীও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে-বিদেশি বিনিয়োগকৃত জ্বালানি খাতকে ৫ শতাংশ ডব্লিউপিপিএফ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতির সব উদ্যোগ প্রত্যাহার, নির্বাচন-পূর্ব সময়ে শ্রমনীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত বন্ধ, পিএসসি সংশোধনীর খসড়া জনসমক্ষে প্রকাশ ইত্যাদি।
শ্রমিক নেতারা বলেন, ডব্লিউপিপিএফ কোনো দয়া নয়, এটি শ্রমিকদের আইনগত অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো উদ্যোগ তারা মেনে নেবেন না।
