ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তহবিলের অর্থ নিয়ে প্রশাসকদের বক্তব্যে চরম বিরোধ দেখা দিয়েছে। সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দাবি করেছেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব ছাড়ার সময় তিনি কর্পোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাবে ১২৬০ কোটি টাকার বেশি রেখে গেছেন। অপরদিকে বর্তমান প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলছেন, ফান্ডে এখন মাত্র ২৫ কোটি টাকা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব তথ্য জানান সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।
স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, আমি সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে এক বছর মেয়াদের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। আমার এক বছরের মেয়াদের শেষ দিন ১০ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব বুঝিয়ে দেই। সেদিন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ টি একাউন্টে মোট ১২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার তিনশ ১১ টাকা ৬০ পয়সা তহবিলে জমা রেখে একটি সমৃদ্ধ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন রেখে এসেছিলাম।
সাবেক এই প্রশাসক আরও লেখেন, আশাকরি সুন্দর ঢাকা গড়তে বর্তমান টিম আরও ভালো করবে, শুভকামনা।
অবশ্য এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা উত্তর সিটির নবনিযুক্ত প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, জাতীয় নির্বাচনের দু’দিন আগে সাবেক প্রশাসক ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ অফিস করেছেন। সেদিন তিনি ৩৪টি ফাইল সাইন করে গেছেন।
বর্তমান প্রশাসক বলেন, উত্তর সিটির ফান্ডে এখন মাত্র ২৫ কোটি টাকা আছে। করপোরেশনে এখন একেবারেই ভঙ্গুর অবস্থা, কোনো ফান্ড নেই।
মিল্টন আরও জানান, ইতোমধ্যে ১৪৭০ কোটি টাকার টেন্ডার দিয়ে ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধের দায়িত্ব এখন কর্পোরেশনকে বহন করতে হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কর্পোরেশনটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ এজাজ।
