ডিজিটাল দুর্বলতায় জাল ভোটের ঝুঁকি, প্রবাসী ভোটে আস্থার সংকট

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪০ পিএম

তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের ‘হাইজ্যাকিং দ্য ভোট: ইনসাইড বাংলাদেশ’স ডেটা–ড্রাইভেন ইলেকশন ম্যানিপুলেশন’ শীর্ষক নীতি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানসহ দেশের প্রায় ১৮০টি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তথ্য যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডেটাবেজে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে তথ্যপাচার এবং অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সংস্থাটির আশঙ্কা, কোনো প্রার্থী বা তার দল যদি কোনোভাবে এই ডেটাবেজ থেকে অনুপস্থিত প্রবাসী বা মৃত ভোটারদের তালিকা বের করতে পারে তাহলে তাদের নামে জাল ভোট দেওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

প্রযুক্তির সাহায্যে কেউ চাইলে সহজেই ডিজিটাল জালিয়াতির মাধ্যমে আসন্ন নির্বাচনে ভোট জালিয়াতি করতে পারবে। কেননা এবারের নির্বাচনে ভোটারদের তথ্য অনলাইনে পাওয়া যাবে সহজেই। আর তাতে রয়ে যায় ডিজিটাল ঝুঁকি যেখানে অ্যাপ, ড্যাশবোর্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার হয়ে উঠছে মূল হাতিয়ার। তাই বিদ্যমান ডিজিটাল কাঠামোর দুর্বলতাগুলো সংস্কার না হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনও বিশ্বাসযোগ্যতার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি আজ বৃহস্পতিবার নিজেদের ওয়েবসাইটে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে জাতীয় পরিচয়, পোস্টাল ভোট, নির্বাচনের ফল ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচন–সংক্রান্ত ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি তৈরির উদ্দেশ্য নির্বাচন কমিশনকে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সুপারিশ দেওয়া। যাতে ভবিষ্যতে নির্বাচনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জন–আস্থা জোরদার করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বিদ্যমান ডিজিটাল কাঠামোর এই দুর্বলতাগুলো সংস্কার না হলে ভবিষ্যৎ নির্বাচনেও আস্থা, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

গত বছরের ১৮ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন শুরু হয়। নিবন্ধন চলে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রবাসী ভোটার নিবন্ধনবিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের তথ্য বলছে, গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৯ জন প্রবাসী ভোটার তাঁদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোট দিয়েছেন ৪ লাখ ৭২ হাজার ৪১০ জন। আর ৪ লাখ ৩১ হাজার ৭৪৮ জন প্রবাসী ভোটার তাঁদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাকবাক্সে জমা দিয়েছেন।

তবে এই ব্যবস্থা নিয়েও টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের ওই প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ কোনো স্বতন্ত্র ব্যবস্থা নয়। এটি নির্বাচনী ব্যবস্থায় আগে থেকেই বিদ্যমান দুর্বল কাঠামোরই অংশ। ফলে কাঠামোগত দুর্বলতা সমাধান না করে পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা বিদ্যমান আস্থার সংকটকে আরও বাড়াবে।

প্রতিবেদনে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল ব্যবস্থাপনায় যেসব ডিজিটাল টুল ব্যবহার করা হবে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক তথ্য ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ নামে একটি অ্যাপ থেকে জানা যাবে। তবে এই সফটওয়্যারের নকশা ও পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে প্রতিবেদনে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই অ্যাপে দেওয়া তথ্য কীভাবে যাচাই করা হচ্ছে, তথ্য বদলানো বা দেরিতে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না, কিংবা সংবেদনশীল আসনগুলোতে তথ্য বাছাই করে দেখানো হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা বা দৃশ্যমান নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই। ফলে ভোটকেন্দ্রের কাগজে লেখা প্রাথমিক তথ্য এমন সিস্টেমের মাধ্যমে প্রকাশিত হলে, শুরুতেই ফলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর