ডিমলায় উত্তেজনার পেছনে সাম্প্রদায়িকতা নয় রাজনৈতিক সংঘাত, বলছেন হিন্দু সম্প্রদায়

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ঠাকুরের স্কুল এলাকায় মঙ্গলবার রাতের উত্তেজনাকর ঘটনার পর বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এটি মূলত ভোটকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত নয়। স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনো পক্ষের বিরোধ হয়নি এবং ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চলেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও বাড়ির মালিক অমল কুমার চক্রবর্তী বলেন, “খেজুর গাছ মার্কার প্রার্থী সেখানে আসেননি। প্রার্থীর ভাইয়ের সঙ্গে আমার কথা হচ্ছিল রাস্তার পাশে। মূলত নির্বাচনী এজেন্ট নিয়েই আলোচনা। ভোট কেনা-বেচা বা টাকা বিতরণের কোনো বিষয় ছিল না।” তিনি জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে চার-পাঁচটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন এসে দাঁড়ানো গাড়ি নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং খেজুর গাছের স্টিকার দেখে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে তর্ক শুরু করে। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

অমল কুমার আরও বলেন, “হঠাৎ করে খরের পালায় আগুন লাগে। কে দিয়েছে আমি বলতে পারি না। আমরা সবাই মিলে আগুন নেভাই। জামায়াতের কেউ আমাদের কাছে ভোট চাইতে আসেনি, হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে কারও বিরোধও হয়নি। বিএনপি-জমিয়ত ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। কিন্তু এটি কোনো সাম্প্রদায়িক আক্রমণ নয়। তবে খরের পালায় আগুন লাগার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত।”

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী শ্রী ধনঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, “একটা মাইক্রো আর কয়েকটি মোটরসাইকেলের লোকজন নিজেদের মধ্যে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ দেখি খরের গাদায় আগুন। দৃশ্যটা দেখে আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আতঙ্কের মুহূর্তে আমি একটি ভুল কথা বলেছিলাম, যার জন্য আমি ক্ষমা চাইছি।”তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “খেজুর গাছ ও দাঁড়িপাল্লা মার্কার কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল, কিন্তু হিন্দু ভাইদের সঙ্গে কারও কোনো ঝামেলা হয়নি। এটি সাম্প্রদায়িক সংঘাত নয়।” স্থানীয়রা জানান, প্রশাসন দ্রুত পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে উপস্থিত হওয়ায় বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো গেছে। নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু কোনো পক্ষের উচিত নয় সাম্প্রদায়িক রং লাগিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা।

এ প্রসঙ্গে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন,“আফেন্দী সাহেবের ছোট ভাই সেখানে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে গাড়ি থামিয়েছিলেন। তাদের দাবি, তারা সেখানে এজেন্ট নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের ধারণা ছিল তারা টাকা বিতরণ কিংবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে সেখানে এসেছেন। এ ভুল বোঝাবুঝি থেকেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।”

খরের গাদায় অগ্নিসংযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, “কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দিয়েছে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউই সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারেনি। আমরা সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর