রাজধানীর ডেমরায় ডিএনডি খালের ওপর গড়ে ওঠা প্রায় ৪০০ অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির অবসান হবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৫ আসনের বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক ও সাবেক ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএসসিসির ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীনগর এলাকায় ডিএনডি খালের ওপর অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে নবী উল্লাহ নবী উপস্থিত ছিলেন। বুলডোজার দিয়ে খালের ওপর ও সড়কের পাশে গড়ে ওঠা প্রায় ৪০০ অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার পাভেল মাহমুদসহ পুলিশের সদস্যরা।
নবী উল্লাহ নবী বলেন, ‘ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও কদমতলীর একাংশ নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ আসনের কোথাও কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। হাজীনগরের এই এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের লোকজন ডিএনডি খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে খালের ওপর দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দিত। সেই ধারাবাহিকতায় এখনো কতিপয় অসাধু ব্যক্তি অবৈধ সুবিধা নিয়ে এসব স্থাপনা টিকিয়ে রেখেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এ বিষয়ে আমার কাছে ব্যাপক অভিযোগ এসেছে।’
উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনামুল হক বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘দলের নাম ভাঙিয়ে কতিপয় অসাধু নেতাকর্মী সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকানপাট বসিয়ে চাঁদাবাজি করে আসছে এমন অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসক আব্দুস সালামের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কোনো জায়গায় অবৈধ দোকানপাট থাকতে দেওয়া হবে না।’
তবে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ফুটপাত ও মানুষের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো দোকানপাট বসতে দেওয়া হবে না বলেও জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. লিটন খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, ৬৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই, ডেমরা থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মহারাজ সাগর, ডেমরা থানা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আজিজুল হক আজিজ, ডেমরা থানা বিএনপি নেতা মো. সকালসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
