নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলমসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাইফুল ইসলাম নামে এক ভোটার বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এম সাইফুল ইসলামের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম, তার স্ত্রী ইসরাত জাহান সুমি, দুই ছেলে আহনাফ রাফসান শাসন ও আহনাফ শাহ সাহেল এবং তার চার কর্মী শাহীন মুন্সি, সোহেব আক্তার সোহাগ, জিয়াউল হক জিয়া ও পলাশ হোসেন শরীফ।
মামলার আবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার সত্ত্বেও মো. শাহ আলম নিজেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করে হরিণ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছেন। গত ১, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি প্রচারণার সময় শাহ আলম ও তার কর্মীরা বিএনপি ধানের শীষ মার্কার মধ্যে হরিণ প্রতিক ব্যবহার করে ‘ধানের শীষের মার্কা হরিণ’, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মার্কা হরিণ’, ‘দেশনেত্রীর মার্কা হরিণ’ ইত্যাদি বিভ্রান্তিকর স্লোগান দিয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা হিসেবে ধরা হয়েছে।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভূঁইয়া বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার পর শাহ আলম বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তবে তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় তার প্রতীককে তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার মার্কা হিসেবে উপস্থাপন করে আসছিলেন। এটি প্রতারণা ও জালিয়াতির শামিল, ফলে ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “এ কারণে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন এবং আগামী ১২ মে এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।”
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রাজিব মণ্ডল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।”
প্রসঙ্গত, এই আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মোহাম্মদ শাহ আলম নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
