পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, তারেক রহমান এখানে উপস্থিত না থেকেও সত্যিকার অর্থেই বিএনপি’র নেতৃত্ব তার হাতেই ছিল। উনি ঢাকায় পদার্পণ না করলে যে নির্বাচন হবে না, বা সুষ্ঠু হবে না— এটা আমার ঠিক মনে হয় না।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপনডেনট অ্যাসসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি: পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রাসঙ্গিক ভূমিকা’ শীর্ষক ডিক্যাব টকে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘‘নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা এটা অন্যান্য আরও ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করে। আমার মনে হয় না— একজন ব্যক্তির কারণে, কিংবা দূরে থাকার কারণে নির্বাচন নষ্ট হবে। দেখা যাক, সময় তো আছে, শেষ পর্যন্ত কী হবে, সেটা তো আমি জানি না।’’
তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘তারেক রহমানের দেশে আসার আগ্রহের বিষয়ে আমি পত্রপত্রিকা থেকেই জানি। আমার কাছে আলাদাভাবে কোনও তথ্য নেই এই ব্যাপারে।’’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সমন্বয়ের অভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা কিছুটা হয়। বিশেষ করে আমাদের অঞ্চলে অনেকেই— যে বিষয়ে তার কথা বলা উচিত না, সেটা বলে বসেন, এটা হয়। ভারতেও এমন দেখা যায়। এগুলো নিয়ে এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।’’
ভারতের চিকেন নেকে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘আমাদের সঙ্গে ভারতের যে সমঝোতা আছে— সীমান্তের ৫০০ গজের মধ্যে কেউ অবকাঠামো নির্মাণ করবে না। এটা ওই সীমানার ভেতরে না। কাজেই আমাদের আপত্তি করার সুযোগ নেই। তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য করছে— এটা তো মনে করার কোনও কারণ নেই। তারা যদি মনে করে, তাদের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজন তারা সেটা করতেই পারে।’’
ওপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘যখন কারও পাসপোর্ট থাকে না, কিংবা মেয়াতোত্তীর্ণ থাকে, তখন যদি কেউ আসতে চান, আমরা মিশন থেকে ওয়ান টাইম একটা পাস দিয়ে দেই, দেশে আসার জন্য। এটা দিতে একদিন লাগে। কাজেই তারেক রহমান যদি আজকে বলেন আসবেন, আগামীকাল আমরা এটা দিয়ে দিতে পারবো। উনি এটা দিয়েই প্লেনে উঠতে পারবেন। ওনার স্ট্যটাস সম্পর্কে উনি নিজেই বলেছেন, এই বিষয়ে আমার জানা কম। আমি শুধু বলতে পারি— বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বিধিনিষেধ নেই।’’
খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘‘খালেদা জিয়াকে এই মুহূর্তে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় নেই। উনি কিছুটা সুস্থ হলে নিয়ে যাওয়া হবে। ওনার পার্টির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা করা হচ্ছে, আমরা সহায়তা করছি।’’
ভুটানের ট্রানশিপমেন্ট বাংলাদেশে আটকে থাকার প্রসঙ্গে তিতৌহিদ হোসেন বলেন, ‘‘ভারত অনুমতি না দিলে শিপমেন্ট ভারতের মধ্যে দিয়ে অন্যদেশে যেতে পারবে না। কারণ আমাদের সঙ্গে তো নেপালের সীমান্ত নেই। আমাদের সঙ্গে যদি সীমান্ত থাকতো, তাহলে ভুটান থেকে আমরা বিদ্যুৎ আনতে পারতাম সহজেই। কাজেই আমরা যদি আনতে চা—ই ভারতের সহায়তা লাগবে, একই বিষয় ব্যবসার ক্ষেত্রেও।’’
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে অজিত দোভালের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘দুই দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠকে কী আলাপ হয়েছে, সেটা কিন্তু প্রকাশিত হওয়ার কথা না। আমার সঙ্গে যেগুলো শেয়ার করেছেন, আমিও তো বলতে পারি না, উনি যদি বলতে না চান। আমি নিশ্চিত যে ওনার সঙ্গে কী কথা হয়েছে অজিত দোভাল কিন্তু সেটা ভারতকে বলেননি। কোনও নিরাপত্তা উপদেষ্টাই তা করেন না।’’