তারেক রহমান ফিরছেন গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২২ পিএম

গুলশান অ্যাভিনিউ। গাড়ির হর্ন, পথচারীর ব্যস্ততা, শহরের নিত্যদিনের শব্দমুখরতা। তবে এই কোলাহলের মাঝেও একটি বাড়ি নীরব, স্বতন্ত্র। গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ি। দেখতে সাধারণ মনে হলেও চারপাশের কঠোর নিরাপত্তা বলয়, অস্থায়ী ছাউনি আর সিসিটিভি ক্যামেরাই বলে দিচ্ছে-এই ঠিকানায় জমা রয়েছে এক বিশেষ প্রতীক্ষা। দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে কাটানোর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফিরছেন এই বাড়িতেই।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দলীয় নেতাদের মতে, এটি শুধু একজন নেতার ফেরা নয়, একটি সময়েরও সমাপ্তি। বিমানবন্দরে সংবর্ধনা মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার পর তিনি সরাসরি ছুটে যাবেন এভারকেয়ার হাসপাতালে, মা ও দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে। এরপর গন্তব্য হবে গুলশানের ১৯৬ নম্বরের সেই বাড়িটি।

গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি কেবল একটি আবাস নয়; এটি জিয়া পরিবার ও বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর তৎকালীন সরকার এই বাড়িটি খালেদা জিয়াকে বরাদ্দ দিয়েছিল। দীর্ঘ বছর ধরে বহু রাজনৈতিক উত্থান-পতনের সাক্ষী এই ভবন। এর দেয়ালে যেন মিশে আছে অসংখ্য রাতের বৈঠক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের স্মৃতি। গত কয়েক মাস আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িটির মালিকানা দলিল খালেদা জিয়ার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এই বাড়ির পাশেই রয়েছে খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন। পাশের বাড়িটি এখন প্রস্তুত হচ্ছে আরেক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য। দুটি বাড়ির মধ্যে ভৌগোলিক দূরত্ব সামান্য হলেও এর রাজনৈতিক বার্তা অত্যন্ত গভীর।

কেবল বাসভবনই নয়, গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এবং নয়াপল্টনের দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তারেক রহমানের জন্য আলাদা কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া, গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি বাড়িতে একটি নতুন চারতলা কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে দলটি। দলীয় সূত্র অনুযায়ী, এই কার্যালয় থেকেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ ভবিষ্যতের সকল রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। নতুন কার্যালয়ে রয়েছে আধুনিক ব্রিফিং কক্ষ, গবেষণা সেল ও বিভাগভিত্তিক দপ্তর। এখানে নির্বাচন, নীতি ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ক প্রস্তুতি চলছে।

গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাড়ি এখন আর শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়। এটি রূপ নিয়েছে এক অপেক্ষার, স্মৃতির ও সম্ভাবনার প্রতীকে। দীর্ঘ প্রবাসের পর একজন রাজনৈতিক নেতার ফেরা দলের সমর্থকদের আবেগে আপ্লুত করার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সমীকরণেও যুক্ত করতে যাচ্ছে নতুন মাত্রা। 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন