
বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৪ হাজার ৯১১ মৌজায় খাবারের পানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। ৬ নভেম্বর জারি করা গেজেটে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১০ বছর এই অঞ্চলকে পানিসংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ঘোষণায় ১ হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে অতি উচ্চ, ৮৮৪টি উচ্চ ও ১ হাজার ২৪০টি মৌজাকে মধ্যম-সংকটাপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে সেচ বা শিল্পকারখানার জন্য আর কোনোভাবেই গভীর নলকূপের পানি ব্যবহার করা যাবে না।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অধীনে রাজশাহী ও রংপুর জেলায় প্রায় ১৮ হাজার গভীর নলকূপ রয়েছে। গেজেট পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারাও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কৃষকেরা বলছেন, হঠাৎ সেচ বন্ধ করে দিলে চাষাবাদ অচল হয়ে পড়বে। স্থানীয় কৃষক মনিরুজ্জামান মনিরের মত, কৃষিকাজ টিকিয়ে রাখতে ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও নতুন জলাধার তৈরির দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৫–৯০ সালে যেখানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ছিল ২৬ ফুট, তা ২০১০ সালে নেমে যায় ৫০ ফুটে এবং ২০২১ সালে ৬০ ফুটে। এখন অনেক এলাকায় পানি তুলতে ১১৩ ফুটের বেশি গভীর পর্যন্ত খনন করতে হচ্ছে। ক্রমাগত পানি উত্তোলনের কারণে মরুকরণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
গেজেটে খাল–বিল–পুকুর ইজারা নিরুৎসাহিত করা, জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন বন্ধ রাখা এবং পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ব্যবসায়ীরা শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট সমাধানে পদ্মার পানি বরেন্দ্রে প্রবাহিত করা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ।