তিন দাবিতে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হয়েছেন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করছে। ছাত্রদলের কর্মসূচি তিনটি দাবিতে চলছে। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করে।
ছাত্রদলের ৩টি দাবি হলো-
- পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
- একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
- রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
কর্মসূচি প্রসঙ্গে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক নির্বাচনে অনৈতিকভাবে একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দিতে নির্বাচনের তারিখ বারবার পরিবর্তন ও স্থগিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আমরা লক্ষ্য করছি, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছে। সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনে তাদের কোনো কাজ না থাকলেও তারা সেখানে অবাধ বিচরণ করছে এবং প্রভাব বিস্তার করছে।
রাকিবুল ইসলাম বলেন, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজস্ব ‘সেটআপ’ ছাড়া তারা নির্বাচন করতে ভয় পায়। তাদের জামাতপন্থি ভিসি, প্রক্টর এবং নিজস্ব ওএমআর মেশিনের সেটআপ ব্যতীত তারা কোথাও নির্বাচন করতে পারে না। শাবিপ্রবিতে পাঁচদিন নির্বাচন বন্ধ রেখে পুনরায় চালু করা এর বড় প্রমাণ।
তিনি দাবি করেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন হল সংসদ নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনে তারা ভালো ফলাফল করছে। তবে এই অগ্রযাত্রা রুখে দিতে এবং জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতেই কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেন ছাত্রদল সভাপতি।
আজকের এই ঘেরাও কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করা হচ্ছে উল্লেখ করে ছাত্রদল নেতা বলেন, আমরা আজ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসেছি। যদি এই জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
