দুই দশক পর ত্রিশালে জাতীয় নজরুলজয়ন্তী, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

প্রায় দুই দশক পর জাতীয় পর্যায়ে উদ্‌যাপিত হতে যাচ্ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর জন্মজয়ন্তী। কবির স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশাল-এ এবার আয়োজন করা হচ্ছে বর্ণাঢ্য নজরুলজয়ন্তী, যার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে ত্রিশালের নজরুল অডিটরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদ্‌যাপন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে সংস্কৃতির বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালের পর ত্রিশালে আর জাতীয় পর্যায়ে নজরুলজয়ন্তী উদ্‌যাপন হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বছর পুনরায় জাতীয়ভাবে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ আয়োজনকে দেশের জন্য একটি আদর্শ (মডেল) হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এতদিন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতি বছর ২৫ মে তিন দিনব্যাপী নজরুলজয়ন্তী ও মেলা অনুষ্ঠিত হলেও তা সীমাবদ্ধ ছিল স্থানীয় পর্যায়ে। এবার সেই আয়োজন পাচ্ছে জাতীয় স্বীকৃতি ও ব্যাপকতা।

মতবিনিময় সভায় ময়মনসিংহ বিভাগ-এর চার জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অংশ নেন। তারা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দেশের সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে হলে নতুন করে পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা সাংস্কৃতিক উপাদানকে কাজে লাগাতে হবে। তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের সংস্কৃতিকে একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে নিয়মিত কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন।

ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর জাতীয়ভাবে নজরুলজয়ন্তী উদ্‌যাপনের উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করছে। অতীতে জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজন অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ ছিল, এমনকি আন্দোলনও হয়েছে। নানা কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

অন্যদিকে, ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় পর্যায়ের এই আয়োজনকে স্থায়ী করার দাবি জানান। পাশাপাশি কাজী রফিজুল্লাহ দারোগার স্মৃতিকে সংরক্ষণে তাঁর নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।

বিভাগীয় কমিশনার ফারাহ শাম্মী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। প্রধান আলোচক ছিলেন ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান। এছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ও অন্যান্য অতিথিরা ত্রিশালের নজরুল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন এবং সেগুলোর উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন