দুই শতাধিক তরুণের স্বেচ্ছাশ্রমে মহাসড়কের আগাছা-ঝোপঝাড় পরিষ্কার

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫১ এএম

জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে দ্বিতীয়বারের মতো স্বেচ্ছাশ্রমে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করেছেন দুই শতাধিক তরুণ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হিউম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে শুক্রবার সদর উপজেলার কামালপুর ইউনিয়নের খালিশপুর এলাকায় এ পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকেই সংগঠনের দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক একযোগে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। কারও হাতে ছিল দা, কারও হাতে কোদাল, আবার কেউ বড় ঝোপঝাড় ও আগাছা পরিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কাজে নেমে পড়েন। সকাল থেকেই দলবদ্ধভাবে সড়কের দুই পাশে ছড়িয়ে পড়ে স্বেচ্ছাসেবকেরা আগাছা, লতাপাতা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করতে থাকেন।

এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মৌলভীবাজার-শেরপুর অংশের প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের দুই পাশ পরিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্যস্ত এই মহাসড়ক দিয়ে দিন-রাত দ্রুতগতিতে ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু সড়কের দুই পাশে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সাধারণ পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অনেক সময় মূল সড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হয়। যানবাহন এলে নিরাপদে সরে দাঁড়ানোর মতো জায়গাও পাওয়া যায় না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।

পথচারীদের এই দুর্ভোগ ও ঝুঁকি কমাতেই স্বেচ্ছাশ্রমে এগিয়ে এসেছেন তরুণরা। শুধু মহাসড়কের পাশ পরিষ্কার করেই থেমে নেই হিউম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সামাজিক কার্যক্রম। গত তিন বছর ধরে সংগঠনটি কামালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্তে ‘পরিষ্কারে পুরস্কার’ নামে একটি ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে কোনো ব্যাক্তি  ইউনিয়নের কোনো স্থান নির্বাচন করে সেগুলো নিজেদের শ্রমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে  সংগঠনের দায়িত্বশীলদের কাছে দিলেই ওনাকে সংগঠনের পক্ষ থেকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

সংগঠনটির সদস্যরা জানান, ‘পরিষ্কারে পুরস্কার’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর না দিয়ে সাধারণ মানুষ ও তরুণদের নিজেদের এলাকার প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলা। পুরস্কারের মাধ্যমে সদস্যদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রান্ত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

শুক্রবারের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বেচ্ছাসেবকেরা বলেন, ‘এটি আমাদের দ্বিতীয়বারের মতো মহাসড়কের পাশ পরিষ্কার করার কর্মসূচি। এর পাশাপাশি গত তিন বছর ধরে আমরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ‘পরিষ্কারে পুরস্কার’ কর্মসূচি পরিচালনা করছি। আমাদের উদ্দেশ্য হলো তরুণদের শুধু নিজেদের ঘর বা আঙিনা নয়, পুরো ইউনিয়নকে নিজেদের জায়গা মনে করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার মানসিকতা তৈরি করা।’

তারা আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পরিবর্তন শুধু সরকারের উদ্যোগে সম্ভব নয়। প্রত্যেকে নিজের জায়গা থেকে দায়িত্ব নিলে একটি পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। সেই লক্ষ্যেই আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছি।’

হিউম্যান ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক শুক্রবারের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এটি সংগঠনটির ধারাবাহিক সামাজিক কার্যক্রমেরই একটি অংশ। ভবিষ্যতেও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতা, সচেতনতা ও মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর