শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ময়মনসিংহে শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছয় শতাধিক শিশু-কিশোর স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়। শিশুদের রঙ-তুলিতে ফুটে ওঠে দুর্গাপূজা, শরতের প্রকৃতি, গ্রামবাংলার দৃশ্য, ধর্মীয় ও বাঙালি সংস্কৃতির নানা চিত্র।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে নগরের ঐতিহ্যবাহী দুর্গাবাড়ি মন্দির প্রাঙ্গণে এ চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই প্রতিযোগিতাস্থলে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। কেউ ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলে দেবী দুর্গার প্রতিমূর্তি, কেউ আঁকে শরতের কাশফুল, নীল আকাশ ও প্রকৃতির সৌন্দর্য। আবার কেউ তুলে ধরে গ্রামবাংলার চিরচেনা দৃশ্য ও বাঙালির ঐতিহ্য। রঙ-তুলির আঁচড়ে শিশুদের কল্পনা ও সৃজনশীলতার নানা দিক ফুটে ওঠে।
একদিকে পূজার উৎসব, অন্যদিকে শিশুদের চিত্রাঙ্কন দুইয়ে মিলে আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। অভিভাবকরাও শিশুদের উৎসাহ দেন এবং তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ড উপভোগ করেন।
আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শংকর শাহা বলেন, ‘শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি, সংস্কৃতি ও উৎসবের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে। শিশুরা অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। তাদের রঙ-তুলিতে শারদীয় দুর্গোৎসব ও প্রকৃতির সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে শিশুদের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। আমরা চেয়েছি, প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশু যেন উৎসাহিত হয় এবং নিজেদের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পায়।’
শংকর শাহা আরও বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় ছয় শতাধিক শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে। অংশগ্রহণকারী সবাইকে আমরা সান্ত্বনা পুরস্কার দিয়েছি। এতে শিশুরা আরও উৎসাহিত হয়েছে এবং তাদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।’
এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে অংশগ্রহণকারী এক শিশুর মা শ্রীমতি রানী বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার জন্য এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। এতে শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধও তৈরি হয়।
আরেক অভিবাক বিমল শাহা বলেন, ‘ভবিষ্যতেও শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতে এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হবে।’
প্রতিযোগিতার চারটি বিভাগে প্লে গ্রুপ থেকে ১০ম শেণির শিক্ষার্থীরা দেবী দুর্গার ছবিসহ ধর্মীয় চিত্র আঁকায় অংশ নেন। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে ১২টি করে মোট ৪৮ শিশুকে পুরস্কৃত করা হবে। বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী কর হয়।
