খুলনার রূপসায় মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে ছেলে ও স্বামীকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নাসিমা বেগম। শোকের সাগরে ভাসতে থাকা এই নারীর মনে এখন শুধুই অজানা আতঙ্ক ও নিরাপত্তার ভয়। ভীতিকর এই পরিস্থিতিতে নতুন করে কোনো মামলা করতেও আর সাহস পাচ্ছেন না তিনি ও তার পরিবার।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রূপসার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে বাড়ির সামনের কাঠের বেঞ্চে বসে থাকা অবস্থায় আক্তার ঢালীকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এর আগে, গত ১৫ আগস্ট একইভাবে তার ছেলে জয় ঢালীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে আক্তার ঢালীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় তার শোকার্ত স্ত্রী নাসিমা বেগম আক্ষেপ করছেন আর বলছেন, ‘আমি কী করব, কী করার আছে আমার। আল্লাহ আমারে আর কী কী সহ্য করার জন্য রাখছে। আল্লাহ আমারে কী দৃশ্য দেখাল। ছেলে গেল, এবার ওর বাবা গেল।’
ছেলের হত্যার মামলা নিয়ে তার স্বামী তীব্র মানসিক চাপে ছিলেন উল্লেখ করে নাসিমা বেগম জানান, আক্তার ঢালী প্রায়ই বলতেন, ‘জয়ের মামলা নিয়ে এদিক-ওদিক দৌড়াদৌড়ি করছি, চাপ আসছে। কখন কী হয়, ভয়ে থাকি।’ তখন স্বামীকে থামানোর চেষ্টা করে নাসিমা বলতেন, ‘ছেলে তো আর ফিরে আসবে না, আমরা না হয় সব বাদ দিই।’
পরপর দুটি মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর এখন পুরো পরিবার থমকে গেছে। নাসিমা বেগম আর নতুন কোনো ঝামেলায় জড়াতে চান না। আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কিচ্ছু জানি না, কারা মেরেছে। আমি কিছু বলব না। মাসখানেক আগে ছেলেটা চলে গেল। এবার ওর বাবাও গেল। তোমরাও যারা আছ, তারা এখন কিছুতে কারও নামে কিছু বলবা না। না জানি কী বিপদ হবে।’
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, জোড়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে স্থানীয় একটি সশস্ত্র চক্র জড়িত থাকতে পারে। পুলিশ এলাকাটিতে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে অভিযান শুরুর কথা জানালেও, আতঙ্কে দিন কাটানো নাসিমা বেগম ও তার স্বজনদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর শঙ্কা।
খুলনার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার ওমর ফারুক জানান, জয় ঢালীর হত্যা মামলার আসামি, জামিনে থাকা ব্যক্তিরা এবং জামিনের পর হুমকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক তদন্তে কারা এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে, কতজন ছিল সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া গেছে। ওই এলাকায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে।
