ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব জার্মানি গমনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে তিনি ঢাকা ছাড়েন। তবে তার এই সফরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ফয়েজ আহমদের দেশত্যাগের খবর নানা মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের পরের দিনই তিনি তাড়াহুড়ো করে দেশ ছেড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন ফয়েজ আহমদ।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারে দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি এবং নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছেন।
ফয়েজ আহমদ তার পোস্টে লিখেছেন, ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে। এরপরে নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচনী আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি।
১০ ফেব্রুয়ারি তার অফিসিয়াল শেষ কর্মদিবস ছিল জানিয়ে তিনি লেখেন, সেদিন কর্মকর্তা-কর্মচারী, সবার সঙ্গে একসঙ্গে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটূ কথা শোনানোর আগে, তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না।
তিনি আরও লেখেন, ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে, সেইসঙ্গে স্ত্রীর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। আরও একটা তথ্য দেই, রিটার্ন টিকেট কেটে এসেছি, ডেট…লোকেদের কাছ থেকেই জেনে নিয়েন। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারেনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে।
দেশে দায়িত্ব পালনকালে তার শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কথাও জানান তিনি। লিখেছেন, অনেকগুলো বই উপহার পেয়েছি, বইগুলো সঙ্গে নিয়ে এসেছি। দীর্ঘ ক্লান্তির পরে একটু লম্বা বিশ্রাম প্রয়োজন। স্লিপিং সাইকেল ডিসরাপট হওয়ায় বিগত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারে নিজের কাজের মূল্যায়ন করে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা এনেছি। সবগুলো পুরানা আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মতো খেটেছি।
তিনি আরও দাবি করেন, আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি, আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মার্সি, এটা নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি।
শিগগিরই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি লেখেন, দ্রুত একটা চাকরি খুঁজব। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী-সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্ত করতে কাজ করেছে।
পোস্টের শেষে তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়ে লেখেন, আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি। ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।
