ধর্ষণের পর তরুণীকে হত্যা, ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২১ এএম

হবিগঞ্জে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৩টায় হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা এ রায় দেন। 

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা মিরাশ উদ্দিনের ছেলে খলিল উদ্দিন ও মৃত ইশ্বাদ উল্লাহ’র ছেলে মো. গোলাম হোসেন। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন খলিল উদ্দিন। তার সংসারে স্ত্রী-সন্তান ছিল। কিছুদিন প্রেম করার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা টাকা লাগবে জানিয়ে তার পুরোনো রুপার চেইন বিক্রি করতে চান। চেইন ক্রয় এবং টাকা দিতে রাজি হন প্রেমিক খলিল। তিনি ভুক্তভোগীকে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাত ১টার সময় দেখা করতে বলেন। বিষয়টি খলিল গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম হোসেনকেও জানান। 

রাতে দেখা করতে গেলে ওই নারীকে একটি নির্জন জমিতে নিয়ে ধর্ষণ করেন খলিল উদ্দিন। বিষয়টি গোলাম হোসেন দেখে ফেললে তিনিও ধর্ষণচেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী রাজি না হওয়ায় দুজন মিলে তরুণীকে হত্যা করেন। পরদিন দুপুরে পরিবারের লোকজন তার মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের বাবা সুফি মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলে তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দুজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। একজন প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে। অপরজন বিষয়টি দেখে সেও ধর্ষণ করতে চায়। পরে দুজন মিলে মেয়েটিকে হত্যা করে। এটি চরম অমানবিক একটি বিষয়। 

তিনি আরও বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তারা যদি আপিল করতে চান তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন