রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের কালসারডারা বাজারে নকল সার, কীটনাশক ও ভেজাল গো-খাদ্য তৈরির গোডাউনে যৌথ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ‘মেসার্স মোখলেছুর ট্রেডার্স’-এর প্রোপাইটার মাইদুল ইসলাম বাবুর মালিকানাধীন ওই গোডাউন থেকে বিপুল নকল কৃষি উপকরণ ও সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান, নকল সাদৃশ্য সার, নকল বালাইনাশক ও ছত্রাকনাশক, রং-কেমিক্যাল, ইটের রাবিশ, কাঠের গুঁড়া, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেট এবং ভেজাল পণ্য তৈরির আধুনিক যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। গোডাউনটিতে বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির অসংখ্য প্যাকেটসহ সার ও ভুসি তৈরির ১ হাজার ১২৬ বস্তারও বেশি উপকরণ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নকল কারখানার হোতা মাইদুল ইসলাম বাবু কালসারডারা সংলগ্ন একটি চাতালে ধানের কুঁড়া ও কাঠের গুঁড়ার সঙ্গে সামান্য ভুসিমাল মিশিয়ে ‘বসুন্ধরা’ ও ‘মণ্ডল’সহ দেশীয় শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে বাজারে বিক্রি করে আসছিলেন। এসব ভেজাল পণ্য গোপনে গুদামজাত করতে তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের আশপাশে একাধিক গোডাউন ভাড়া নেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে আবদুল্লাহপুর বাজার সংলগ্ন সাদুল্লাপুর সীমানার আলীনগর বাদুরপুরে মাইদুল ইসলামের আরেকটি নকল সার কারখানায় যৌথ অভিযান চালায় সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রশাসন। সেখান থেকেও বিপুল নকল সার ও তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (১০ অক্টোবর) পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন কালসারডারা বাজারের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযানের খবর টের পেয়ে অভিযুক্ত মাইদুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগী আলহাজ মোখলেছুর রহমান কৌশলে পালিয়ে যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে কেঁচো জৈব সার তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রচার চালানো হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের কোনো সন্দেহ হয়নি। কিন্তু প্রশাসনের অভিযানের সময় বিপুল কেমিক্যাল, ইটের রাবিশ ও নকল বালাইনাশক তৈরির সরঞ্জাম দেখে তারা হতবাক হয়ে যান।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, অভিযানে যেসব রাসায়নিক ও উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলোর নমুনা পরীক্ষার জন্য রংপুরে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষা শেষেই নিশ্চিত হওয়া যাবে উপকরণগুলোর আসল উপাদান কী ছিল। তবে প্রাথমিকভাবে সেখানে বিপুল নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরির বিষয়টি স্পষ্ট। প্রতিষ্ঠানটির কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। আইনি প্রক্রিয়া শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। সেখানে সার, কীটনাশক ও ভুসির নামে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর উপাদান প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে গোডাউনটি তালাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে ভুয়া ও নকল সার কারবারিদের অপতৎপরতায় ফুঁসে উঠেছেন ওই অঞ্চলের ভুক্তভোগী কৃষকরা। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধনকারী এসব প্রতারকের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযানে সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল রানা, পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাজুল ইসলাম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
