দলের অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি নতুন নয়, এটি অনেক পুরোনো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেছেন, অতীতেও দলের নেতাকর্মী ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের উদ্যোগে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান শাওন সাদিকের উপর সন্ত্রাসী হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, বিএনপি দেশ পরিচালনার নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান বিভিন্ন পর্যায়ে নেতাকর্মীদের বারবার সতর্ক করে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক, জাতীয় সংসদে দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভাগীয় পর্যায়ে নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বলা হয়েছে, গণমাধ্যম এখন স্বাধীন। সংবাদমাধ্যম যা খুশি লিখতে পারে এবং সমালোচকেরা যা খুশি বলতে পারেন। তাই নেতাকর্মীদের আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এই সতর্কতা অবলম্বন করতে না পারলে বিএনপিতে থাকা যাবে না এ কথা পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। এরপরও কেউ উদ্ধত আচরণ করে মানুষের মনে কষ্ট দিলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তনি বলেন, বিএনপির একজন নেত্রী হিসেবে জীবনে অনেক ত্যাগ করেছেন, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পদত্যাগের নির্দেশনা দিয়ে তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে এবং অপরাধীর খাতায় তার নাম লিখে দেওয়া হয়েছে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের ইতিহাস তুলে ধরে আলাল বলেন, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের আগে ঢাকায় জাতীয়তাবাদী যুবদলের একটি কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় দলের ভেতরের দুর্নীতিবাজ ও আগাছাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি বলেছিলেন আমি ধান লাগিয়েছি ধানের গোড়া যখন নরম ছিল তখন কিছু আগাছা জন্ম নিয়েছে। ধানের গোড়া এখন শক্ত আমি সেই আগাছা পরিষ্কার করতে চাই। তবে সেই কাজ করার আগেই ওনাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেয়।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে আলাল বলেন, সেই সময় ছাত্রদলের সভাপতি ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসিরুদ্দিন পিন্টুকে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাকে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছিল। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন মন্ত্রীর ছেলে কুষ্টিয়া যুবদলের সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও ঠিকাদারি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আসার পর তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার এবং তার বাবাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কৃষকের সার নিয়ে সার কেলেঙ্কারির ঘটনায় চট্টগ্রামের আরেকজন মন্ত্রীকেও মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
ন্যাপ চেয়ারম্যান শাওন সাদিকের ওপর হামলার প্রসঙ্গে আলাল বলেন, ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমের কাছে ছোট ঘটনা হতে পারে, কিন্তু এটি বড় ঘটনা। প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা আরও বাড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান ও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাত বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন সংগ্রামে বিএনপির সঙ্গে ছিলাম। আজ বিএনপি ক্ষমতায় রয়েছে অথচ আসামি গ্রেপ্তারে চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাহা কাম্য নয়।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ মুসলীম লীগের সভাপতি ব্যারিস্টার নাসিম খান, গণদলের চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, এনপিপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, এনডিপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হারুন সোহেল, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সভাপতি সাইদ আহম্মেদ, ডিএল সাধারণ সম্পাদক খোকন চন্দ্র দাস, জাগপার সভাপতি জাকির হোসেন রিয়াজ, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব আব্দুল বারিক, এনডিপি মহাসচিব জামিল আহম্মেদ, গণদলের মহাসচিব আবু সৈয়দ, মুসলিম লীগের মহাসচিব রেজওয়ান মর্তুজা, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব সাইফুল আলম, এনপিপি মহাসচিব জহির হোসেন প্রমুখ।
