যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) অনুষ্ঠিত হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এর স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম টুটুল ও মো. তানভীর ইবনে আলম। তাদের তৈরি মহাকাশ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রকল্প ‘স্কুটারিস’ চ্যালেঞ্জটির দুটি বিজয়ী প্রকল্পের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
আশরাফুল ও তানভীর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে (Truman State University) পড়াশোনা করছেন। আশরাফুল কম্পিউটার ও ডেটা সায়েন্স এবং তানভীর ডেটা সায়েন্স ও অ্যাস্ট্রোনমি নিয়ে পড়ছেন। দুজনেরই বাড়ি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে। আশরাফুল ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজের এবং তানভীর নটর ডেম কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী।
গত ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এ বিশ্বের ২৩টি দেশ, যুক্তরাষ্ট্রের ৪১টি অঙ্গরাজ্য এবং ১৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১ হাজার ১০০-এর বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। এবারের আয়োজনে ৬০টির বেশি প্রতিষ্ঠান স্পনসর হিসেবে যুক্ত ছিল।
‘স্কুটারিস’ একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর অরবিটাল সেফটি প্ল্যাটফর্ম। পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট ও মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিসের সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করে তা ব্যবহারকারীর কাছে সহজভাবে তুলে ধরাই এর মূল লক্ষ্য।
প্রকল্পটিতে সেলেস ট্র্যাক থেকে সংগৃহীত ৯ হাজারের বেশি বাস্তব কক্ষপথের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় কোনো প্রশ্ন করলে ইলাস্টিকসার্চ ওই তথ্য থেকে সবচেয়ে প্রাসঙ্গিক ঝুঁকিগুলো শনাক্ত করে। এরপর স্পেসএক্সএআই-এর গ্রক পাঁচ ধাপে ঝুঁকিটি বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য করণীয় জানায়, নিরাপত্তার বিষয়গুলো যাচাই করে এবং একটি সহজ ভিজ্যুয়াল রিপোর্ট তৈরি করে।
প্ল্যাটফর্মটিতে ত্রিমাত্রিক পৃথিবীর মডেলে স্যাটেলাইটের অবস্থান, কক্ষপথ, সম্ভাব্য সংঘর্ষের দূরত্ব ও ঝুঁকির মাত্রা দেখার সুবিধাও রয়েছে।
আশরাফুল ও তানভীর এর আগেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোডিং ও প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। এটি তানভীরের দ্বিতীয়বার হ্যাকএমআইটি-এ অংশগ্রহণ।
আশরাফুল হার্ভার্ড ও কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোডিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় অ্যাট আরবানা-শ্যাম্পেইনের একটি প্রতিযোগিতায়ও পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি।
পড়াশোনার পাশাপাশি দুজনই গবেষণা ও প্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়। তানভীর ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রতিযোগিতামূলক ইমার্জিং ইনোভেটর রিসার্চ প্রোগ্রামের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি নাসার কেপলার ও টিইএসএস মিশনের তথ্য ব্যবহার করে ইক্লিপসিং বাইনারি স্টার নিয়ে গবেষণা করছেন। পাশাপাশি আরও কয়েকটি গবেষণা কার্যক্রমেও যুক্ত রয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, আশরাফুল কম খরচের মাইক্রোস্কোপ ও এআই ব্যবহার করে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণা করেছেন। ভবিষ্যতে ড্রোন ও এআই ব্যবহার করে সড়কের অবস্থা শনাক্তকরণ নিয়ে গবেষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
জয়ের অনুভূতি জানিয়ে আশরাফুল ও তানভীর বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। স্কুটারিসের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি, এআই ও বাস্তব মহাকাশের তথ্য ব্যবহার করে কীভাবে স্যাটেলাইট সংঘর্ষের ঝুঁকি সহজে খুঁজে বের ও বিশ্লেষণ করা যায়। আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমরা গর্বিত।’
