নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চলছে ইসির ‘মক ভোটিং’

বাংলাদেশ চিত্র ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চলছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মক (অনুশীলনী) ভোটিং কার্যক্রম। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে এই ভোটের কার্যক্রম শুরু হয়।

মক ভোটিংয়ের এই কেন্দ্রে সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে নারী ও পুরুষ ভোটারদের স্লিপ সংগ্রহের জন্য আলাদা তিনটি করে ছয়টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। ভোটাররা প্রথমেই ওই বুথগুলোতে যাচ্ছেন এবং নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ভোটার স্লিপ সংগ্রহ করছেন। পরে একজন একজন করে ভোটার কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করছেন।

ভোটার উপস্থিতি

এদিকে সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও সেনবাহিনীর সদস্যদের। সারিবদ্ধ দাঁড়িয়ে এসব বাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক দুটি করে চারটি ভোটকক্ষ করা হয়েছে। কক্ষের সামনে ভোট দিতে যাওয়া লোকজনের ভিড় দেখা গেছে। গণ্ডগোল না থাকলেও পরিবেশ ছিল অনেকটাই বিশৃঙ্খল।

এ সময় বিশৃঙ্খল পরিবেশ নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। বলেন, কিছুই হচ্ছে না। তিনি কমিশনের কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।

পরে আবার নতুন করে ভোটারদের সারিতে দাঁড় করানো হয়। মক ভোটার, মক পর্যবেক্ষক, মক সাংবাদিক, কে কোথায় থাকবেন, কী দায়িত্ব পালন করবেন, সেগুলো বুঝিয়ে দেন। এর পরে কেন্দ্রে শৃঙ্খলা আসে। 

ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা

এ সময় ভোট দিয়ে আসা শামীমা ইয়াসমিন বলেন, আগের ভোট ও এই ভোটের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এবার ভোট অনেক সুশৃঙ্খলভাবে হচ্ছে। আশা করছি, মানুষের কাছে ভালো বার্তা যাবে। সামনে যে নির্বাচন হবে আশা করছি, অবশ্যই সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনের ভোট ও গণভোট দুইটা নিয়ে বুঝতে সমস্যা হয়নি বলেও জানান তিনি।

গণভোট নিয়ে ভোটার মুন্সি রইছ উদ্দীন বলেন, হ্যাঁ-না জানি না। লেখাও বুঝি নাই। লেখা পড়ার টাইমও নাই। এমনিই হ্যাঁ ভোট দিয়ে আসছি।

কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আজকের মক ভোটিং মূলত অনুশীলন। এখান থেকে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের জন্য অভিজ্ঞতা ও স্ট্র্যাটেজি নির্ধারণ করা হবে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। ভিন্ন রঙের দুটি ব্যালট দেখে গণভোট ও জাতীয় নির্বাচনের পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারছেন। ভোটের পরিবেশও সুষ্ঠু রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এই অনুশীলন কমিশনকে সময়, ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ের হিসাব বুঝতে সাহায্য করবে। ভোটের হার যতই হোক, লক্ষ্য সবসময় শতভাগ ভালো করা। প্রচার-প্রচারণা চলমান থাকবে এবং ভোটারদের অভিজ্ঞতাকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আজকের আয়োজন কমিশনের জন্য একটি শেখার প্ল্যাটফর্ম।

Share This Article